ঢাকা 1:31 pm, Friday, 16 January 2026
সংবাদ শিরোনাম ::

আমরা কারাগারে নয়, ছিলাম কসাইখানায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 03:39:45 am, Tuesday, 14 October 2025 233 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমরা কারাগারে ছিলাম না, ছিলাম কসাইখানায়

সূত্র: আল–জাজিরা থেকে অভিযোজিত | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ফিলিস্তিনিরা তাঁদের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করেছেন “কল্পনারও অতীত” বলে। গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা আবদাল্লাহ আবু রাফি আল–জাজিরাকে বলেন, মুক্তির অনুভূতি তাঁর কাছে ছিল “অবিশ্বাস্য।”

“আমরা কারাগারে ছিলাম না, ছিলাম এক কসাইখানায়,” বলেন আবু রাফি। “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। অনেক তরুণ এখনো সেখানে বন্দি। ওখানকার অবস্থা ভয়াবহ—তোশক পর্যন্ত নেই, খাবারও অস্বাস্থ্যকর। সবকিছুই কঠিন ও অমানবিক।”

আরেক মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু আমরার ভাষায়, কারাগারের অবস্থা ছিল “চরম ভয়াবহ।”

“খাবার, নির্যাতন, প্রহার—সবদিক থেকেই অবস্থা ছিল অসহনীয়। কোনো খাবার বা পানি ছিল না। আমি টানা চার দিন কিছু খাইনি। এখানে খান ইউনিসে এসে আমাকে দুটি মিষ্টি দেওয়া হয়, ওগুলোই খেয়েছি,” বলেন তিনি।

অন্য এক মুক্ত ফিলিস্তিনি সাইদ শুবাইর বলেন, স্বাধীনতার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

“এই অনুভূতি বর্ণনাতীত। মুক্ত আকাশের নিচে সূর্য দেখা—এ এক অবর্ণনীয় আনন্দ। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতার কোনো দাম হয় না; এটি অমূল্য।”

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই আজীবন বা দীর্ঘ মেয়াদি সাজাভোগ করছিলেন। পাশাপাশি, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটক করা আরও ১,৭১৮ জন ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ তাঁদের আগে “বলপূর্বক গুম হওয়া” ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আমরা কারাগারে নয়, ছিলাম কসাইখানায়

আপডেট সময় : 03:39:45 am, Tuesday, 14 October 2025

আমরা কারাগারে ছিলাম না, ছিলাম কসাইখানায়

সূত্র: আল–জাজিরা থেকে অভিযোজিত | প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত ফিলিস্তিনিরা তাঁদের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করেছেন “কল্পনারও অতীত” বলে। গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা আবদাল্লাহ আবু রাফি আল–জাজিরাকে বলেন, মুক্তির অনুভূতি তাঁর কাছে ছিল “অবিশ্বাস্য।”

“আমরা কারাগারে ছিলাম না, ছিলাম এক কসাইখানায়,” বলেন আবু রাফি। “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই কসাইখানার নাম ছিল ওফের কারাগার। অনেক তরুণ এখনো সেখানে বন্দি। ওখানকার অবস্থা ভয়াবহ—তোশক পর্যন্ত নেই, খাবারও অস্বাস্থ্যকর। সবকিছুই কঠিন ও অমানবিক।”

আরেক মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইয়াসিন আবু আমরার ভাষায়, কারাগারের অবস্থা ছিল “চরম ভয়াবহ।”

“খাবার, নির্যাতন, প্রহার—সবদিক থেকেই অবস্থা ছিল অসহনীয়। কোনো খাবার বা পানি ছিল না। আমি টানা চার দিন কিছু খাইনি। এখানে খান ইউনিসে এসে আমাকে দুটি মিষ্টি দেওয়া হয়, ওগুলোই খেয়েছি,” বলেন তিনি।

অন্য এক মুক্ত ফিলিস্তিনি সাইদ শুবাইর বলেন, স্বাধীনতার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

“এই অনুভূতি বর্ণনাতীত। মুক্ত আকাশের নিচে সূর্য দেখা—এ এক অবর্ণনীয় আনন্দ। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতার কোনো দাম হয় না; এটি অমূল্য।”

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই আজীবন বা দীর্ঘ মেয়াদি সাজাভোগ করছিলেন। পাশাপাশি, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটক করা আরও ১,৭১৮ জন ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ তাঁদের আগে “বলপূর্বক গুম হওয়া” ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিল।