ঢাকা 1:31 pm, Friday, 16 January 2026
সংবাদ শিরোনাম ::

ডলার কেনায় ব্যাংকের বৈদেশিক মজুত কমে $৩.৯৪ বিলিয়ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:08:54 am, Saturday, 18 October 2025 257 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় কমে $৩.৯৪ বিলিয়ন

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সেপ্টেম্বর মাসে নেমে এসেছে ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলারে, যা মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার সক্রিয় নীতির ফল বলে জানিয়েছেন মানি মার্কেট সংশ্লিষ্টরা।

টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারব্যাংক স্পট মার্কেট থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার ক্রয় করে আসছে। এই কার্যক্রমের প্রভাব ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ধারণের পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা মজুত আগস্টের ৪.৩৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

গত কয়েক মাসে এই মজুদের পরিবর্তন ছিল এভাবে— মার্চে ৫.১১ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৪.৫০ বিলিয়ন, মে মাসে ৪.৯৮ বিলিয়ন, জুনে ৪.২৫ বিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ৪.২৭ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬ শতাংশ কম, তখন ব্যাংকগুলোর হাতে ছিল প্রায় ৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে, যা ব্যাংকগুলোর ডলার মজুদের পতনের অন্যতম কারণ।

তিনি আরও জানান, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা ও তারল্য ব্যবস্থাপনা—এই দুই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫৯০০ কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাংকগুলোর দায় পরিশোধে সহায়তা করছে।

এ প্রসঙ্গে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন,

“আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত ডলার জমে আছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ডলার কিনে বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ‘রেমিট্যান্সের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হঠাৎ দরপতন রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ওপেন ইউএসডি পজিশনে সীমা আরোপ করে বা অতিরিক্ত ডলার জমা দিতে বলে।’

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পাশাপাশি আমদানি আদেশ বা এলসি খোলার পরিমাণও বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ কমানোর আরেকটি কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.২২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগস্টে ছিল ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

এলসি খোলার পরিমাণ ছিল জুলাইয়ে ৬.০৩ বিলিয়ন ডলার এবং জুনে ৪.১৪ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (NOP) বা বৈদেশিক মুদ্রা ধারণক্ষমতা তিন মাস আগের ১.২০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে এখন প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডলার কেনায় ব্যাংকের বৈদেশিক মজুত কমে $৩.৯৪ বিলিয়ন

আপডেট সময় : 11:08:54 am, Saturday, 18 October 2025

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় কমে $৩.৯৪ বিলিয়ন

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সেপ্টেম্বর মাসে নেমে এসেছে ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলারে, যা মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার সক্রিয় নীতির ফল বলে জানিয়েছেন মানি মার্কেট সংশ্লিষ্টরা।

টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারব্যাংক স্পট মার্কেট থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার ক্রয় করে আসছে। এই কার্যক্রমের প্রভাব ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ধারণের পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা মজুত আগস্টের ৪.৩৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

গত কয়েক মাসে এই মজুদের পরিবর্তন ছিল এভাবে— মার্চে ৫.১১ বিলিয়ন, এপ্রিলে ৪.৫০ বিলিয়ন, মে মাসে ৪.৯৮ বিলিয়ন, জুনে ৪.২৫ বিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ৪.২৭ বিলিয়ন ডলার।

এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬ শতাংশ কম, তখন ব্যাংকগুলোর হাতে ছিল প্রায় ৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে, যা ব্যাংকগুলোর ডলার মজুদের পতনের অন্যতম কারণ।

তিনি আরও জানান, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা ও তারল্য ব্যবস্থাপনা—এই দুই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫৯০০ কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাংকগুলোর দায় পরিশোধে সহায়তা করছে।

এ প্রসঙ্গে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন,

“আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত ডলার জমে আছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ডলার কিনে বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ‘রেমিট্যান্সের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হঠাৎ দরপতন রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর ওপেন ইউএসডি পজিশনে সীমা আরোপ করে বা অতিরিক্ত ডলার জমা দিতে বলে।’

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পাশাপাশি আমদানি আদেশ বা এলসি খোলার পরিমাণও বেড়েছে, যা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ কমানোর আরেকটি কারণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.২২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগস্টে ছিল ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

এলসি খোলার পরিমাণ ছিল জুলাইয়ে ৬.০৩ বিলিয়ন ডলার এবং জুনে ৪.১৪ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নেট ওপেন পজিশন (NOP) বা বৈদেশিক মুদ্রা ধারণক্ষমতা তিন মাস আগের ১.২০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে এখন প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।