ঢাকা 1:30 pm, Friday, 16 January 2026
সংবাদ শিরোনাম ::

যে কারণে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : 12:30:45 pm, Wednesday, 26 November 2025 123 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে কারণে ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে না—সম্ভাবনা খুবই কম

অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাঁচ দিন পরই দিল্লিতে নোট ভার্বালে পাঠানো হয়।

গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই বিবৃতি, রাজনৈতিক বার্তা ও সাক্ষাৎকার দিয়ে সক্রিয় থেকেছেন—যা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বারবার বিষয়টি দিল্লির কাছে তুললেও ভারত এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। সর্বশেষ রায়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া শুধু এটুকুই—তারা বিষয়টি নজরে নিয়েছে এবং বাংলাদেশে শান্তি, অন্তর্ভুক্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়।

ধরে নিলেও ভারত তাঁকে ফেরত দিতে রাজি হবে, প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ ও জটিল। ভারতীয় আদালতে শুনানি হবে এবং শেখ হাসিনা অভিযোগগুলো চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ভারত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন সম্ভাবনা কম। দিল্লি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সীমিত ম্যান্ডেটের একটি অস্থায়ী প্রশাসন হিসেবেই দেখে।

হাসিনা সরকারের আমলে যারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বা ২০২৪ সালের অস্থিরতায় যারা পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে ট্রাইব্যুনালের রায় ন্যায়বিচারের প্রতীক হলেও—ভারতে অবস্থান করার কারণে রায় বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। তাই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বাংলাদেশ তুলে ধরলেও ভারতে তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত কম—মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তা আরও কমে গেছে। ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিপক্ষে।

১৯৭১ সাল থেকে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক যোগাযোগ, ১৯৭৫–এর পর ভারতে তাঁর দীর্ঘ নির্বাসন জীবন এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করা—এ সব কিছুর কারণে দিল্লি তাঁকে বহুদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবেই দেখে। এমন কাউকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পাঠানো হলে তা ভারতের আঞ্চলিক কূটনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তিতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা আছে। ভারত চাইলে বলতে পারে—প্রক্রিয়াটি ন্যায়সঙ্গত নয় বা রাজনৈতিক।

কৌশলগত ও নিরাপত্তা–স্বার্থ বিবেচনায় ভারত সম্ভবত আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো ‘ভারতে আশ্রয়’ ইস্যুটিকে নির্বাচন–কেন্দ্রিক প্রচারণায় বড় করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। এই ইস্যু সেই টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যে কারণে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারত

আপডেট সময় : 12:30:45 pm, Wednesday, 26 November 2025

যে কারণে ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে না—সম্ভাবনা খুবই কম

অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাঁচ দিন পরই দিল্লিতে নোট ভার্বালে পাঠানো হয়।

গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই বিবৃতি, রাজনৈতিক বার্তা ও সাক্ষাৎকার দিয়ে সক্রিয় থেকেছেন—যা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বারবার বিষয়টি দিল্লির কাছে তুললেও ভারত এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। সর্বশেষ রায়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া শুধু এটুকুই—তারা বিষয়টি নজরে নিয়েছে এবং বাংলাদেশে শান্তি, অন্তর্ভুক্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়।

ধরে নিলেও ভারত তাঁকে ফেরত দিতে রাজি হবে, প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ ও জটিল। ভারতীয় আদালতে শুনানি হবে এবং শেখ হাসিনা অভিযোগগুলো চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত ভারত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে—এমন সম্ভাবনা কম। দিল্লি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সীমিত ম্যান্ডেটের একটি অস্থায়ী প্রশাসন হিসেবেই দেখে।

হাসিনা সরকারের আমলে যারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বা ২০২৪ সালের অস্থিরতায় যারা পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, তাঁদের কাছে ট্রাইব্যুনালের রায় ন্যায়বিচারের প্রতীক হলেও—ভারতে অবস্থান করার কারণে রায় বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। তাই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বাংলাদেশ তুলে ধরলেও ভারতে তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত কম—মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তা আরও কমে গেছে। ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিপক্ষে।

১৯৭১ সাল থেকে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক যোগাযোগ, ১৯৭৫–এর পর ভারতে তাঁর দীর্ঘ নির্বাসন জীবন এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করা—এ সব কিছুর কারণে দিল্লি তাঁকে বহুদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবেই দেখে। এমন কাউকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পাঠানো হলে তা ভারতের আঞ্চলিক কূটনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তিতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা আছে। ভারত চাইলে বলতে পারে—প্রক্রিয়াটি ন্যায়সঙ্গত নয় বা রাজনৈতিক।

কৌশলগত ও নিরাপত্তা–স্বার্থ বিবেচনায় ভারত সম্ভবত আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো ‘ভারতে আশ্রয়’ ইস্যুটিকে নির্বাচন–কেন্দ্রিক প্রচারণায় বড় করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। এই ইস্যু সেই টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে।