বাংলাদেশ ব্যাংক আর বিএসইসির শীর্ষ ব্যক্তিরাও ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন
- আপডেট সময় : 04:32:24 am, Thursday, 27 November 2025 156 বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন থেকে চাইলে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেতে পারবেন।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এই সুযোগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কমপক্ষে ২৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাঁরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা বা সমমানের পদে থাকতে হবে এবং জাতীয় বেতন কাঠামোর দ্বিতীয় গ্রেডভুক্ত হতে হবে। ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ এবারই প্রথম সৃষ্টি হলো।
এমডি–সিইও নিয়োগবিষয়ক নীতিমালায় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার নতুন একটি আদেশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক আইডিআরএ–এর বর্তমান বা সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন ব্যাংকের এমডি বা সিইও হওয়ার যোগ্য হবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় শীর্ষ পদে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর হলেও ব্যাংকের এমডি বা সিইও হওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৬৫ বছর। ফলে অবসরের পরে পাঁচ বছর পর্যন্ত সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা এই পদের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন। অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়োগ দিতে হবে।
নতুন বিধান বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসিতে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) বা তার ঊর্ধ্বতন পদে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কমপক্ষে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরা এই সুযোগ পাবেন। ইডির নিচের কোনো কর্মকর্তা এমডি বা সিইও হওয়ার যোগ্য হবেন না; কারণ ইডি পদই জাতীয় বেতন কাঠামোর দ্বিতীয় গ্রেডে পড়ে।
ক্ষেত্র–বিশেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজের চেয়ে ভিন্ন, তাই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক পরিচালনায় অনেক ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ঘাটতি দূর করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বহু কর্মকর্তা আছেন যারা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কাজ করেছেন এবং ব্যাংক পরিচালনার জন্য উপযুক্ত। তবে তাঁদেরও প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ করে আসতে হবে।
তবে ব্যাংকখাতের অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, নতুন বিধানের ফলে স্বার্থের সংঘাত দেখা দিতে পারে। তাঁদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন—যেমন বোর্ডের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, একই প্যানেলে যদি একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং কয়েকজন বেসরকারি ব্যাংকার থাকেন, তাহলে সহকর্মীর প্রতি কিছুটা সহানুভূতির কারণে পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকি থেকেই যায়।
এ ছাড়া ব্যাংকের বোর্ডগুলোর কাছেও সাবেক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা বেশি গুরুত্ব পেতে পারেন, যেহেতু তাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ বা সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ভাবা হতে পারে।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নতুন নীতিমালার ফলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তালিকা বিস্তৃত হবে, তবে স্বার্থের সংঘাত ঘটতে পারে কি না, সেটির গভীরভাবে মূল্যায়ন জরুরি। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজের ধরন ও চ্যালেঞ্জ এক নয়; তাই ব্যাংকে যোগ দিলে নতুন বাস্তবতা সামলাতে হবে।
অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হয়েছেন বটে, কিন্তু তখন এ ধরনের নীতি ছিল না। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধান যুক্ত করা হলো।
২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির আগের পরিপত্রে এমডি/সিইও হওয়ার জন্য কমপক্ষে ২০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং সিইওর ঠিক আগের পদে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে বলা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনায় সেই অংশ বাতিল করে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, এমডি/সিইও পদের জন্য ২০ বছরের সক্রিয় ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে একক বা যৌথভাবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।










