ঢাকা 1:28 pm, Tuesday, 3 March 2026
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড্ডায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী গ্রেপ্তার পাবনা-৩ আসনে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের অভিযোগ পাবনা-৩ আসনে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের অভিযোগ ঢাকা মাদ্রাসায় বিজ্ঞান উৎসব, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আয়োজনে প্রাণবন্ত প্রাঙ্গণ সূচনা আক্তার রোকেয়া স্মরণে ‘অনন্য সূচনা’ বইয়ের আত্মপ্রকাশ কৃষি সচিবের দুর্নীতি অনিয়মের শেষ রক্ষা হবে কি ? বিসিআরসি’র স্মরণে মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা সড়ক ও জনপদে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে : ড. শেখ মইনউদ্দিন জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা খালেদা জিয়াকে কেন আপসহীন বলা হয়

‘লাকি সাউন্ড’: লনিকের হাতে দেশের ইভেন্ট লজিস্টিক ও লাইভ মিউজিক সেক্টরে নতুন অধ্যায়

দুই স্পিকার দিয়ে শুরু, আজ দেশের জনপ্রিয় ইভেন্ট ব্র্যান্ড—লাকি সাউন্ড-এর সাফল্যের গল্প

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেট সময় : 12:36:01 pm, Wednesday, 3 December 2025 455 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘লাকি সাউন্ড-এর পক্ষ থেকে আমি লনিক আপনাদের সবাইকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।’ ঢাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর বিয়ে কিংবা কর্পোরেট হাউসগুলোর বিশেষ দিনের আয়োজনে এখন প্রায়ই শুরু হয় এই বাক্যটি দিয়ে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে একজন স্বপ্নবাজ তরুণ মো. সিদ্দিকী লনিকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে লাকি সাউন্ড এর।

২০০৫ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স সিঙ্গার ও গিটার প্লেয়ার হিসেবে কাজ শুরু করলেও লাকি সাউন্ড-এর কর্ণধার মো. সিদ্দিকী লনিক ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষা এবং চাকরির জন্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে সাময়িক বিরতি নেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিবিএ ও এমবিএতে টপ ক্লাস রেজাল্টের পর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানিতে বিক্রয় এবং মানবসম্পদ বিভাগে চাকরি করেন যার মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ অন্যতম। একজন সফল মানব সম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন প্রতিষ্ঠানের অর্পিত দায়িত্ব।

মিউজিকের বিরতির এই সময়ে তিনি ভাবতে থাকেন কি করে বাংলাদেশের লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। যেহেতু নিজে ফ্রিল্যান্স মিউজিশিয়ান ছিলেন তাই মন পড়ে ছিল সেদিকেই। লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে বিশ্বমানের করা যায় সেটা নিয়েই ভাবছিলেন।

অবশেষে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে চলে আসেন হুট করেই। দীর্ঘদিনের অনুধাবন থেকে বুঝতে পারেন এই দেশে মানসম্মত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কিংবা এজেন্সির কমতি নেই। কমতি আছে মানসম্মত লজিস্টিক সাপোর্ট-এর যেমন- প্রফেশনাল সাউন্ড সিস্টেম, লাইট, ট্রাস, এলইডি স্ক্রিন এবং ক্যামেরার।

এছাড়াও কমতি আছে দক্ষ টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফের। তখনই চিন্তা করেন লজিস্টিক সাপোর্ট রেন্টালের ব্যবসা। ২টা ছোট স্পিকার এবং একটা প্রজেক্টর ভাড়া নিয়ে শুরু হয় লাকি সাউন্ড-এর যাত্রা। নিজে সিঙ্গার এবং মিউজিশিয়ান হওয়ায় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করাই হতো বেশি। প্রথম দিকে ঘরোয়া, পারিবারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ হতো বেশি। কাজ করতে করতে বুঝতে পারেন এ দেশের ক্রমবর্ধমান ওয়েডিং মার্কেটে কাজের বেশ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সৃষ্টিশীলতার অভাব আছে বেশ। তখনই আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি মাথায় আসে।

কখনো গ্র‍্যান্ড পিয়ানো কখনো বা সেতার দিয়ে যন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনা, কখনো বা নামি এবং প্রফেশনাল শিল্পীদের নিয়ে গানের কাওয়ালী, ফোক, রবীন্দ্র, নজরুল বা উচ্চাঙ্গ সংগীতের আয়োজন। প্রয়োজন হলে কাস্টমাইজ অরক্রেস্টা নিয়ে করছেন বিশ্বমানের ‘কোয়ের’ সেট আপ।

সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে লাইভ কনসার্টগুলোতে প্রমোট করে চলেছেন প্রতিভাবান ইয়াং শিল্পী এবং মিউজিশিয়ানদের।

একটা প্রোগ্রাম পেলে একজন দক্ষ লাইভ মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে পরিবার বা ক্লায়েন্টদের সাথে বসে তাদের চাহিদা শুনে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্কিলের ব্যবহার করে একটা সুন্দর উপস্থাপন তৈরি করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত অত্যন্ত সফলভাবে। এমনকি অনেক সময় বাজেট ইস্যুতে ভুগতে থাকা আয়োজনে শুধু গিটার ও কাহনের সমন্বয়ে গানের আয়োজন করেও মানুষকে দিয়েছে বিনোদন। একটা আয়োজনে গিয়ে পেয়েছেন আরও নতুন প্রোগ্রামের অর্ডার। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন সফলভাবে।

বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনে ফেসবুক পেজ ‘লাকি সাউন্ড’র মাধ্যমে চালু করেন অনলাইনে লজিস্টিক সেবা ও আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস। এখন পর্যন্ত ১০০টির মতো আয়োজনের অর্ডার পেয়েছেন পেজের মাধ্যমে। যেখানে কাস্টমার বা লাকি সাউন্ড-এর প্রতিনিধি কেউ কাউকে সামনাসামনি দেখেনি। অনলাইন কমিউনিকেশন দিয়েই নির্দিষ্ট দিনে প্রোগ্রাম হয়েছে শুধু আস্থার ওপর ভিত্তি করে। এমনকি অনেকেই প্রবাসে থেকেই তার পরিবারের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেন লাকি সাউন্ড-এর অনলাইন পেজের মাধ্যমে।

প্রথমত ঢাকার ভিতর শুরু করলেও পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেছেন মানুষের ডাকে।

দেশের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং লজিস্টিক সেবার নানা ফাঁক-ফোকর, নানা ধোঁকাবাজি ও মধ্যসত্তভোগীদের বিষয়ে সাবধান করতে সোশ্যাল এওয়ারনেস হিসেবে বিশ্বের পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ‘লিন্কড ইন’-এ প্রতিনিয়ত লেখালেখি করে যাচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সাউন্ড, লাইট, এলইডি টেকনিশিয়ানদের নিয়ে ফেসবুকে করেছেন সাউন্ড অপারেটর গ্রুপ। সেখানেও তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে নানা টিপস দিয়ে যাচ্ছেন।

বাধা এসেছে অনেক। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ঊঠে এসে দামি লজিস্টিক আইটেম কিনতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন অনেক। চিকিৎসক স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের নামে ব্যাংক লোন নিয়ে এগিয়ে আসেন সঙ্গীর স্বপ্ন পূরণে। বাবা মা, শ্বশুর-শাশুড়িও ছিলেন পাশে।

প্রথমে শুধু পারিবারিক, বিয়ে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম পেলেও গত ২ বছর ধরে করপোরেট হাউস এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাকি সাউন্ড একটা জনপ্রিয় নাম। বিশেষ করে মিডরেঞ্জ কোম্পানির সেলস কনফারেন্স, পিকনিক, ডে আউট বা গার্মেন্টসগুলোতে লাকি সাউন্ড এখন বিনোদনের খোরাক মেটানোর শীর্ষে।

লাকি সাউন্ড শুধু গানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনেও বদলে দিয়েছে চিরাচারিত রূপ। সব ধর্মের মানুষ আসছে তাদের বিশেষ দিনের আয়োজনে ভিন্ন কিছু করতে লাকি সাউন্ড-এর মাধ্যমে। এ কাজেও সফল লাকি সাউন্ড।

এত বছরেও নিজের একটি অফিস সেট করেননি পাগলাটে এই তরুণ উদ্যোক্তা। এখনো নিজের বাড়ির একটি গ্যারেজ থেকে পরিচালনা করেন সব কিছু। বলেন, একটা মোবাইল, ল্যাপটপ, ডায়রি এবং কলমই তার অফিস।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ৪-৫ জন কিশোর নিয়েই টিম বানানো শুরু থেকে (কারও বাবা নেই, কারও মা বা কারো পরিবার নেই) নিজের সাথেই রাখেন তাদের, খান একই খাবার। তাদের সবাই এখন দক্ষ টেকনিশিয়ান। ইভেন্ট লজিস্টিক সেক্টরে কাজ করা ছেলেদের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন অনেক দিন ধরেই।

নিজেদের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে দিন দিন বিশ্বমানের লাইট, সাউন্ড, এলইডি স্ক্রিন যোগ করে যাচ্ছে নিজেদের বহরে। এই সম্পূর্ণ সংবাদ থেকে একটি শিরোনাম বা হেডিং বানিয়ে দিন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‘লাকি সাউন্ড’: লনিকের হাতে দেশের ইভেন্ট লজিস্টিক ও লাইভ মিউজিক সেক্টরে নতুন অধ্যায়

দুই স্পিকার দিয়ে শুরু, আজ দেশের জনপ্রিয় ইভেন্ট ব্র্যান্ড—লাকি সাউন্ড-এর সাফল্যের গল্প

আপডেট সময় : 12:36:01 pm, Wednesday, 3 December 2025

‘লাকি সাউন্ড-এর পক্ষ থেকে আমি লনিক আপনাদের সবাইকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।’ ঢাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর বিয়ে কিংবা কর্পোরেট হাউসগুলোর বিশেষ দিনের আয়োজনে এখন প্রায়ই শুরু হয় এই বাক্যটি দিয়ে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে একজন স্বপ্নবাজ তরুণ মো. সিদ্দিকী লনিকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে লাকি সাউন্ড এর।

২০০৫ সাল থেকে ফ্রিল্যান্স সিঙ্গার ও গিটার প্লেয়ার হিসেবে কাজ শুরু করলেও লাকি সাউন্ড-এর কর্ণধার মো. সিদ্দিকী লনিক ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষা এবং চাকরির জন্য মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে সাময়িক বিরতি নেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে বিবিএ ও এমবিএতে টপ ক্লাস রেজাল্টের পর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানিতে বিক্রয় এবং মানবসম্পদ বিভাগে চাকরি করেন যার মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ অন্যতম। একজন সফল মানব সম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন প্রতিষ্ঠানের অর্পিত দায়িত্ব।

মিউজিকের বিরতির এই সময়ে তিনি ভাবতে থাকেন কি করে বাংলাদেশের লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। যেহেতু নিজে ফ্রিল্যান্স মিউজিশিয়ান ছিলেন তাই মন পড়ে ছিল সেদিকেই। লাইভ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে বিশ্বমানের করা যায় সেটা নিয়েই ভাবছিলেন।

অবশেষে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে চলে আসেন হুট করেই। দীর্ঘদিনের অনুধাবন থেকে বুঝতে পারেন এই দেশে মানসম্মত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কিংবা এজেন্সির কমতি নেই। কমতি আছে মানসম্মত লজিস্টিক সাপোর্ট-এর যেমন- প্রফেশনাল সাউন্ড সিস্টেম, লাইট, ট্রাস, এলইডি স্ক্রিন এবং ক্যামেরার।

এছাড়াও কমতি আছে দক্ষ টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফের। তখনই চিন্তা করেন লজিস্টিক সাপোর্ট রেন্টালের ব্যবসা। ২টা ছোট স্পিকার এবং একটা প্রজেক্টর ভাড়া নিয়ে শুরু হয় লাকি সাউন্ড-এর যাত্রা। নিজে সিঙ্গার এবং মিউজিশিয়ান হওয়ায় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করাই হতো বেশি। প্রথম দিকে ঘরোয়া, পারিবারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ হতো বেশি। কাজ করতে করতে বুঝতে পারেন এ দেশের ক্রমবর্ধমান ওয়েডিং মার্কেটে কাজের বেশ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সৃষ্টিশীলতার অভাব আছে বেশ। তখনই আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি মাথায় আসে।

কখনো গ্র‍্যান্ড পিয়ানো কখনো বা সেতার দিয়ে যন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনা, কখনো বা নামি এবং প্রফেশনাল শিল্পীদের নিয়ে গানের কাওয়ালী, ফোক, রবীন্দ্র, নজরুল বা উচ্চাঙ্গ সংগীতের আয়োজন। প্রয়োজন হলে কাস্টমাইজ অরক্রেস্টা নিয়ে করছেন বিশ্বমানের ‘কোয়ের’ সেট আপ।

সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে লাইভ কনসার্টগুলোতে প্রমোট করে চলেছেন প্রতিভাবান ইয়াং শিল্পী এবং মিউজিশিয়ানদের।

একটা প্রোগ্রাম পেলে একজন দক্ষ লাইভ মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে পরিবার বা ক্লায়েন্টদের সাথে বসে তাদের চাহিদা শুনে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্কিলের ব্যবহার করে একটা সুন্দর উপস্থাপন তৈরি করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত অত্যন্ত সফলভাবে। এমনকি অনেক সময় বাজেট ইস্যুতে ভুগতে থাকা আয়োজনে শুধু গিটার ও কাহনের সমন্বয়ে গানের আয়োজন করেও মানুষকে দিয়েছে বিনোদন। একটা আয়োজনে গিয়ে পেয়েছেন আরও নতুন প্রোগ্রামের অর্ডার। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন সফলভাবে।

বাংলাদেশের প্রথম অনলাইনে ফেসবুক পেজ ‘লাকি সাউন্ড’র মাধ্যমে চালু করেন অনলাইনে লজিস্টিক সেবা ও আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস। এখন পর্যন্ত ১০০টির মতো আয়োজনের অর্ডার পেয়েছেন পেজের মাধ্যমে। যেখানে কাস্টমার বা লাকি সাউন্ড-এর প্রতিনিধি কেউ কাউকে সামনাসামনি দেখেনি। অনলাইন কমিউনিকেশন দিয়েই নির্দিষ্ট দিনে প্রোগ্রাম হয়েছে শুধু আস্থার ওপর ভিত্তি করে। এমনকি অনেকেই প্রবাসে থেকেই তার পরিবারের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেন লাকি সাউন্ড-এর অনলাইন পেজের মাধ্যমে।

প্রথমত ঢাকার ভিতর শুরু করলেও পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেছেন মানুষের ডাকে।

দেশের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং লজিস্টিক সেবার নানা ফাঁক-ফোকর, নানা ধোঁকাবাজি ও মধ্যসত্তভোগীদের বিষয়ে সাবধান করতে সোশ্যাল এওয়ারনেস হিসেবে বিশ্বের পেশাজীবীদের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ‘লিন্কড ইন’-এ প্রতিনিয়ত লেখালেখি করে যাচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সাউন্ড, লাইট, এলইডি টেকনিশিয়ানদের নিয়ে ফেসবুকে করেছেন সাউন্ড অপারেটর গ্রুপ। সেখানেও তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে নানা টিপস দিয়ে যাচ্ছেন।

বাধা এসেছে অনেক। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ঊঠে এসে দামি লজিস্টিক আইটেম কিনতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন অনেক। চিকিৎসক স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজের নামে ব্যাংক লোন নিয়ে এগিয়ে আসেন সঙ্গীর স্বপ্ন পূরণে। বাবা মা, শ্বশুর-শাশুড়িও ছিলেন পাশে।

প্রথমে শুধু পারিবারিক, বিয়ে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম পেলেও গত ২ বছর ধরে করপোরেট হাউস এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাকি সাউন্ড একটা জনপ্রিয় নাম। বিশেষ করে মিডরেঞ্জ কোম্পানির সেলস কনফারেন্স, পিকনিক, ডে আউট বা গার্মেন্টসগুলোতে লাকি সাউন্ড এখন বিনোদনের খোরাক মেটানোর শীর্ষে।

লাকি সাউন্ড শুধু গানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনেও বদলে দিয়েছে চিরাচারিত রূপ। সব ধর্মের মানুষ আসছে তাদের বিশেষ দিনের আয়োজনে ভিন্ন কিছু করতে লাকি সাউন্ড-এর মাধ্যমে। এ কাজেও সফল লাকি সাউন্ড।

এত বছরেও নিজের একটি অফিস সেট করেননি পাগলাটে এই তরুণ উদ্যোক্তা। এখনো নিজের বাড়ির একটি গ্যারেজ থেকে পরিচালনা করেন সব কিছু। বলেন, একটা মোবাইল, ল্যাপটপ, ডায়রি এবং কলমই তার অফিস।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ৪-৫ জন কিশোর নিয়েই টিম বানানো শুরু থেকে (কারও বাবা নেই, কারও মা বা কারো পরিবার নেই) নিজের সাথেই রাখেন তাদের, খান একই খাবার। তাদের সবাই এখন দক্ষ টেকনিশিয়ান। ইভেন্ট লজিস্টিক সেক্টরে কাজ করা ছেলেদের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন অনেক দিন ধরেই।

নিজেদের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে দিন দিন বিশ্বমানের লাইট, সাউন্ড, এলইডি স্ক্রিন যোগ করে যাচ্ছে নিজেদের বহরে। এই সম্পূর্ণ সংবাদ থেকে একটি শিরোনাম বা হেডিং বানিয়ে দিন