অর্থনীতি, স্বাস্থ্য—সব ব্যাপারেই ভারতকে সবচেয়ে বেশি পাই আমরা: অর্থ উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : 06:26:44 pm, Tuesday, 23 December 2025 48 বার পড়া হয়েছে
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে অতিরঞ্জিত নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। বাস্তবে সম্পর্ক তেমন খারাপ অবস্থায় নেই এবং সরকার চেষ্টা করছে যেন তা অস্বাভাবিক পর্যায়ে না পৌঁছায়। তিনি বলেন, শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়—বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই বৈরী সম্পর্ক কামনা করে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন সেদ্ধ চাল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে ভারতের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। তাঁর ভাষায়, কখনো কখনো উভয় দেশ থেকেই বক্তব্য আসে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী। ভারত বাংলাদেশের বড় প্রতিবেশী, পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গেও ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগোচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একা থাকতে পারে না; অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসহ নানা খাতে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের যোগাযোগ সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও রাজনীতিকে আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং রাজনৈতিক সম্পর্কও স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। ভারত থেকে চাল না এনে অন্য দেশ—যেমন ভিয়েতনাম—থেকে আনলে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি খরচ হতো। তাই প্রতিযোগিতামূলক দামে ভারত থেকে চাল পাওয়া গেলে অন্য উৎসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সম্পর্ক খুব খারাপের দিকে যাবে না। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি আগের চাল আমদানি ও সাম্প্রতিক পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্বীকার করেন, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও কমানো সম্ভব হয়নি। একসময় ভারতে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০ টাকায়ও বিক্রি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কী করছে—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শিগগিরই জানা যাবে। তিনি জানান, ভারতের বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অবগত রয়েছেন, তবে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এসব করছে তারা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় মনোভাব নয়। কোনো দেশের সঙ্গেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও, বাংলাদেশ এ ধরনের বৈরিতা চায় না।
এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবকিছু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কেউ হঠাৎ দাঁড়িয়ে কিছু বললে, তাৎক্ষণিকভাবে তা থামানো সব সময় সম্ভব হয় না।










