‘নাজনীন মুন্নীকে বাদ দিন, না হলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন লাগিয়ে দেব’
- আপডেট সময় : 06:30:44 pm, Tuesday, 23 December 2025 43 বার পড়া হয়েছে
গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছেন একদল তরুণ। তাঁরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী বলে পরিচয় দেন। সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশীদ স্বীকার করেছেন, তাঁদের একজন সদস্য ওই টেলিভিশন কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ ডিসেম্বর, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গ্লোবাল টিভির কার্যালয়ে। ওই তরুণেরা কর্তৃপক্ষকে জানান, নাজনীন মুন্নীকে চাকরিচ্যুত না করলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ের মতো গ্লোবাল টিভির অফিসেও আগুন লাগানো হবে। এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
নাজনীন মুন্নী বর্তমানে গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চলতি বছরের জুলাই মাসে এই চ্যানেলে যোগ দেন। এর আগে তিনি ডিবিসি নিউজে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন। হুমকির বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সাত থেকে আটজন তরুণ নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁর অফিসে এসে চাকরি না ছাড়লে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেয়।
নাজনীন মুন্নী বলেন, গণমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক চাপ ও আক্রমণের অংশ হিসেবেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
গত বছরের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে এই প্ল্যাটফর্ম ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর কয়েক মাস আন্দোলনটির তেমন দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকলেও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে তাদের নাম ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এমন প্রেক্ষাপটে গত ২৫ জুন ভোটের মাধ্যমে সংগঠনটির নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রশিদুল ইসলাম (রিফাত রশীদ) বলেন, মহানগর কমিটির পৃথু নামের এক সদস্য কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়াই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্লোবাল টিভিতে যান। সেখানে তিনি একটি স্মারকলিপি দেন, যেখানে নাজনীন মুন্নীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি জানানো হয়। তবে স্মারকলিপিতে অগ্নিসংযোগের কোনো কথা উল্লেখ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, ওই সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সংগঠনটি গণমাধ্যমের ওপর কোনো হামলার পক্ষে নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।
নাজনীন মুন্নী জানান, হুমকির ঘটনা ঘটে ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। ওই দিন রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি অফিস ছাড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে তরুণদের একটি দল অফিসে এসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হোসেনের সঙ্গে দেখা করে। এর আগে তাঁরা ফোনে যোগাযোগ করলেও কী উদ্দেশ্যে আসছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
তিনি বলেন, প্রথমে তাঁরা একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সংবাদ কাভারেজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তাঁর প্রসঙ্গ তুলে ধরে এমডিকে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁকে চাকরিতে রাখা যাবে না। এমডি তাঁদের জানান, যাচাই–বাছাই করেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
নাজনীন মুন্নীর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণেরা তখন দাবি করেন, তাঁদের কথা মানতেই হবে এবং তাঁকে সরানো না হলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো গ্লোবাল টিভির অফিসেও আগুন দেওয়া হবে। এরপর তাঁরা একটি কাগজে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে চাকরিচ্যুত করার অঙ্গীকারনামায় সই করতে চাপ দেন। এমডি এতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী ওই কাগজে সই করেন বলে তিনি দাবি করেন।
নাজনীন মুন্নী বলেন, ঘটনার পর তাঁকে কয়েক দিন অফিসে না আসতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি নীরব থাকতে চান না। তাঁর ভাষায়, নিয়মিত হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, আগেও রাজনৈতিক চাপে তাঁকে একটি টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়তে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ধারাবাহিক ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় এবং যারা জনমত প্রভাবিত করতে পারে, তাদের সাংবাদিকতায় রাখতে চায় না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।










