হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করার আহ্বান
- আপডেট সময় : 06:38:39 pm, Tuesday, 23 December 2025 32 বার পড়া হয়েছে
সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম আলো সম্পাদকালয়ে সংহতি জানাতে বাংলাদেশে জার্মানি ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতরা কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তারা হামলাকারীদের সনাক্ত করে ন্যায়বিচারের আওতায় আনার জন্য স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আনিয়া কার্স্টেন এবং ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলো কার্যালয়ে যান। তারা গত বৃহস্পতিবার হামলাকারীদের আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অফিস ঘুরে দেখেন এবং সন্ত্রাসী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও দৈনিক স্টার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি উভয় ভবন আগুনে ভস্মীভূত করে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় পড়ে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, “আমরা এখানে এসেছি সাংবাদিক এবং প্রথম আলো গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সংহতি জানাতে, যারা গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণতন্ত্রে স্বাধীন ও মুক্ত সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, মিডিয়া কোয়ালিশনের সদস্য হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মানির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আনিয়া কার্স্টেন বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করাই গণতন্ত্রের ভিত্তি।
তিনি বলেন, “আমরা সংবাদমাধ্যম ও তার স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে চাই। প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলাটি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে স্বাধীন, ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।”
আনিয়া কার্স্টেন আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়, নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষায় সহায়তা করে এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা হলো বাংলাদেশে নিরাপদ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। নিরাপত্তা ছাড়া কেউ নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে না। নিরাপত্তা একটি মৌলিক অধিকার।”
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান দুই রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা, যারা মধ্যে পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা সাই এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা জেমস স্টুয়ার্ট, মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে সংহতি জানান। তাঁরা সম্পাদক সঙ্গে বৈঠক করে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) চারজন প্রতিনিধি, উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদের নেতৃত্বে, প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সংহতি জানান। আসকের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবাদপত্রের কার্যালয়ে এ ধরনের হামলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। এমন ঘটনার ফলে সমাজে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সাংবাদিকতার স্বাভাবিক ও নিরাপদ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।









