ঢাকা 1:32 pm, Friday, 16 January 2026
সংবাদ শিরোনাম ::

ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া সেরেছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : 09:10:40 am, Saturday, 27 December 2025 26 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

লন্ডন থেকে ফেরার দুই দিন পর শনিবার সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আগারগাঁওয়ে যান, যেখানে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তাঁর ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। তবে আগের দুই দিনের মতো লাল–সবুজ রঙের বাসে নয়, ফুলে সাজানো একটি সাদা রঙের এসইউভিতে করে তিনি আগারগাঁওয়ে যান।

আগেই বিএনপি জানিয়েছিল, ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল।

দুপুর ১টার দিকে তিনি নির্বাচন ভবনের পেছনে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে প্রবেশ করেন। ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে প্রবাসী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এনআইডি–সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়।

সেখানে তাঁর ছবি তোলা হয়, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে এনআইডি শাখার মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ সংগ্রহ করে তা নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। পরে তথ্য যাচাই শেষে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি নম্বর তৈরি করা হয়।

প্রক্রিয়াটি শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কারও ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, আবার কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।

যদিও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে লন্ডনে যান। সে সময় তিনি দেশের বাইরে থাকায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তাঁর ভোটার হওয়া হয়নি।

গত বছর জুলাইয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর, আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১২ ফেব্রুয়ারি।

আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান তাঁর পৈতৃক এলাকা বগুড়া সদর (বগুড়া–৬) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া সেরেছেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : 09:10:40 am, Saturday, 27 December 2025

১৭ বছর পর দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

লন্ডন থেকে ফেরার দুই দিন পর শনিবার সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আগারগাঁওয়ে যান, যেখানে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তাঁর ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। তবে আগের দুই দিনের মতো লাল–সবুজ রঙের বাসে নয়, ফুলে সাজানো একটি সাদা রঙের এসইউভিতে করে তিনি আগারগাঁওয়ে যান।

আগেই বিএনপি জানিয়েছিল, ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল।

দুপুর ১টার দিকে তিনি নির্বাচন ভবনের পেছনে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে প্রবেশ করেন। ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে প্রবাসী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এনআইডি–সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়।

সেখানে তাঁর ছবি তোলা হয়, দশ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে এনআইডি শাখার মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ছবি, আঙুলের ছাপ ও আইরিশ সংগ্রহ করে তা নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। পরে তথ্য যাচাই শেষে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি নম্বর তৈরি করা হয়।

প্রক্রিয়াটি শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। কারও ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, আবার কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।

যদিও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়ে লন্ডনে যান। সে সময় তিনি দেশের বাইরে থাকায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় তাঁর ভোটার হওয়া হয়নি।

গত বছর জুলাইয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর, আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১২ ফেব্রুয়ারি।

আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান তাঁর পৈতৃক এলাকা বগুড়া সদর (বগুড়া–৬) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। এ জন্য স্থানীয় নেতারা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।