‘উপদেষ্টাদের মধ্যে কারা সেফ এক্সিট চাইছেন, সেটা নাহিদ ইসলামকেই পরিষ্কার করতে হবে’ — রিজওয়ানা হাসান
- আপডেট সময় : 01:08:22 pm, Wednesday, 8 October 2025 917 বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “উপদেষ্টাদের মধ্যে কারা নিরাপদ প্রস্থান বা সেফ এক্সিট নিতে চান, সেটা স্পষ্টভাবে বলা উচিত নাহিদ ইসলামেরই। তিনি যদি কখনো বিষয়টি পরিষ্কার করেন, তখন সরকার তার অবস্থান জানাবে। এর আগে এ নিয়ে সরকারের কিছু বলার সুযোগ নেই।”
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অনেক উপদেষ্টা নাকি নিজেদের নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবছেন।” তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সরকারের কাজের সম্পর্ক ভালো। উনি হয়তো অভিমান থেকে বলেছেন, কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে কষ্ট পেয়েছেন — এটা তাঁরই ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “নাহিদ ইসলামের বক্তব্য তাঁকেই ব্যাখ্যা করতে হবে, আমার নয়। যদি বক্তব্যটা নির্দিষ্ট হতো, তাহলে হয়তো সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা যেত। কিন্তু সরকারের অবস্থান জানানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, “আমি কোনো এক্সিট খুঁজছি না। আমি সব সময় দেশেই থেকেছি, যত সংকট এসেছে, তা মোকাবিলা করেছি। জীবনটাও এখানেই কাটিয়ে দিতে চাই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে, এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। শুধু সরকার নয়, সব রাজনৈতিক দলই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছে।”
বিচার ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। বিচার যাতে দ্রুত শেষ হয়, সে জন্য নতুন ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছে। সরকার সুবিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, “বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঐকমত্য হয়েছে। এখন সেই ঐকমত্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় উত্থান–পতন থাকবেই, তবে প্রক্রিয়াটা স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে।”
শেষে তিনি বলেন, “পরিবর্তন কখনো চাপিয়ে দেওয়া যায় না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই টেকসই সংস্কার সম্ভব। সরকার একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, যেখানে জনগণই হবে মূল শক্তি।







