ঢাকা 4:16 am, Monday, 1 December 2025
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের ভিড় খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগ, তারেক রহমানের দেশে ফেরার আহ্বান জানালেন ইলিয়াস হোসেন নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেবে বিএনপি: তারেক রহমান তিনটি প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা সিসিইউতে খালেদা জিয়া: এভারকেয়ারে আসছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িতে বিড়াল আছে? তাহলে বারান্দায় রাখতেই হবে এই গাছটি শেখ হাসিনা ‘জনস্বার্থবহির্ভূতভাবে’ সরকারি জমিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন টঙ্গীর গুদাম ট্র্যাজেডিতে নিহত তিন ফায়ার ফাইটারকে সম্মাননা; সহায়তা পেল তাঁদের পরিবার

ইসরায়েলি সেনারা মেশিনগান নিয়ে সেলে ঢুকে যেত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 01:30:47 pm, Saturday, 11 October 2025 90 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক অবস্থায় তাঁরা মূলত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বন্দীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আজ ভোরে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

শহিদুল আলম বলেন, জাহাজ থেকে নামানোর পর তাঁদের নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়, যার মধ্যে মানসিক নির্যাতন ছিল সবচেয়ে তীব্র। তিনি জানান, তাঁদের হাত পেছনে বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসানো হয়েছিল এমন এক জায়গায়, যেখানে আগে ইসরায়েলি সৈন্যরা মূত্রত্যাগ করেছিল। তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট সৈন্যরা ফেলে দেয়, আর তিনি যতবার তা তুলতে যান, ততবারই তাঁকে মারধর করা হয়। সহবন্দীদের মধ্যে দুজন শুধু কথা বলার জন্য মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত পান বলেও জানান তিনি। এমনকি এক সহযাত্রীকে হামাসের সদস্য দাবি করে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, তাঁদের মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি অতি গোপন কারাগারে রাখা হয়। সেখানে অন্য এক বন্দী তাঁকে জানান, আটক হওয়ার সময় ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে বলেছিল, ‘তুমি হামাসের লোক, তোমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হবে।’

শহিদুল আলম আরও জানান, তাঁরা কারাগারে অনশন করেছিলেন এবং বেশির ভাগ বন্দী কোনো খাবার গ্রহণ করেননি। কেবল শারীরিকভাবে দুর্বল কয়েকজন সামান্য খাবার খেয়েছিলেন। আড়াই দিনে তাঁদের মাত্র এক প্লেট খাবার দেওয়া হয়। ঘুমানোর জায়গা ছিল লোহার তৈরি আর শৌচাগারের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নোংরা। তিনি বলেন, গভীর রাতে ইসরায়েলি সেনারা হঠাৎ মেশিনগান নিয়ে সেলে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি করত, জোরে আওয়াজ তুলত, দাঁড়াতে বা অন্য আদেশ মানতে বাধ্য করত—সব মিলিয়ে ভয় সৃষ্টি করত।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে শহিদুল আলম বলেন, “আমরা কিছু অসাধারণ মানুষের ঐক্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। যেহেতু বিশ্বনেতারা কিছু করবেন না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে করতে পারি, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছি এবং দেশে ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আবারও যাব, এবার হাজারটা জাহাজ যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে যেমন জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছি, স্বৈরাচারকে সরাতে পেরেছি, তেমনি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সেই রকম আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েলি সেনারা মেশিনগান নিয়ে সেলে ঢুকে যেত

আপডেট সময় : 01:30:47 pm, Saturday, 11 October 2025

দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক অবস্থায় তাঁরা মূলত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বন্দীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। শনিবার বিকেলে রাজধানীর দৃক পাঠ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আজ ভোরে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

শহিদুল আলম বলেন, জাহাজ থেকে নামানোর পর তাঁদের নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়, যার মধ্যে মানসিক নির্যাতন ছিল সবচেয়ে তীব্র। তিনি জানান, তাঁদের হাত পেছনে বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসানো হয়েছিল এমন এক জায়গায়, যেখানে আগে ইসরায়েলি সৈন্যরা মূত্রত্যাগ করেছিল। তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট সৈন্যরা ফেলে দেয়, আর তিনি যতবার তা তুলতে যান, ততবারই তাঁকে মারধর করা হয়। সহবন্দীদের মধ্যে দুজন শুধু কথা বলার জন্য মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাত পান বলেও জানান তিনি। এমনকি এক সহযাত্রীকে হামাসের সদস্য দাবি করে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, তাঁদের মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত ইসরায়েলের একটি অতি গোপন কারাগারে রাখা হয়। সেখানে অন্য এক বন্দী তাঁকে জানান, আটক হওয়ার সময় ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে বলেছিল, ‘তুমি হামাসের লোক, তোমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হবে।’

শহিদুল আলম আরও জানান, তাঁরা কারাগারে অনশন করেছিলেন এবং বেশির ভাগ বন্দী কোনো খাবার গ্রহণ করেননি। কেবল শারীরিকভাবে দুর্বল কয়েকজন সামান্য খাবার খেয়েছিলেন। আড়াই দিনে তাঁদের মাত্র এক প্লেট খাবার দেওয়া হয়। ঘুমানোর জায়গা ছিল লোহার তৈরি আর শৌচাগারের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নোংরা। তিনি বলেন, গভীর রাতে ইসরায়েলি সেনারা হঠাৎ মেশিনগান নিয়ে সেলে ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি করত, জোরে আওয়াজ তুলত, দাঁড়াতে বা অন্য আদেশ মানতে বাধ্য করত—সব মিলিয়ে ভয় সৃষ্টি করত।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে শহিদুল আলম বলেন, “আমরা কিছু অসাধারণ মানুষের ঐক্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব। যেহেতু বিশ্বনেতারা কিছু করবেন না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে করতে পারি, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছি এবং দেশে ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আবারও যাব, এবার হাজারটা জাহাজ যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে যেমন জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছি, স্বৈরাচারকে সরাতে পেরেছি, তেমনি এখন আন্তর্জাতিকভাবে সেই রকম আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।