নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেবে বিএনপি: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : 07:57:57 pm, Friday, 28 November 2025 9 বার পড়া হয়েছে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ জানিয়েছেন, নারীদের ঘর, কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার দল ক্ষমতায় গেলে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশ এগোতে হলে আমাদের মেয়েরা, মায়েরা, বোনেরা ও সহকর্মীরা যেন আতঙ্কে নয়, নিরাপদ পরিবেশে বাঁচতে পারে।”
তিনি বলেন, প্রতিদিনই বহু নারী শুধুমাত্র কাজ করা, পড়াশোনা করা, মত প্রকাশ করা বা মুক্তভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করার কারণে হয়রানি, ভয়ভীতি, নিপীড়ন ও সহিংসতার মুখে পড়ছেন। “এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যেটার স্বপ্ন আমরা দেখি। আর এটি আমাদের কন্যাদের প্রাপ্য ভবিষ্যতও নয়,” তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ডিজিটাল বিশ্ব আজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে—এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি জানান, তিনি ও তার স্ত্রী প্রায়ই ভাবেন যে তাদের মেয়ের জন্য আজকের পৃথিবী কতটা ভিন্ন, যেভাবে তারা বেড়ে উঠেছিলেন তার তুলনায়। “অনেক বাবা-মায়ের মতো আমরাও একই সঙ্গে আশা আর উদ্বেগ অনুভব করি। সুযোগ বেড়েছে ঠিকই, তবে ঝুঁকিও বেড়েছে,” তিনি বলেন।
তিনি এরপর বিএনপির ক্ষমতায় এলে বাস্তবায়নযোগ্য পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন:
১. জাতীয় অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নারীরা অনলাইন হুমকি, হয়রানি, ভুয়া পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা দ্রুত জানাতে পারবেন—এমন একটি ব্যবস্থা। এতে থাকবে ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম এবং প্রশিক্ষিত কর্মী যারা দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে ব্যবস্থা নেবে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলা ভাষার কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ উন্নত করা হবে, যাতে ক্ষতিকর পোস্ট দ্রুত সরানো যায়।
২. জনজীবনে নারীদের সুরক্ষা প্রোটোকল
সাংবাদিক, ছাত্র, কর্মী, সামাজিক নেতা বা যেকোনো পাবলিক রোলে থাকা নারীদের উপর হামলা বা হয়রানির ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি, প্রযুক্তিগত ও গোপন সহায়তা দেওয়ার জন্য স্পষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা। কোনো নারী যেন জনজীবনে অংশ নেওয়ার কারণে নীরব হয়ে যেতে না বাধ্য হন।
৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা
স্কুল-কলেজে ভর্তি হওয়ার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক “নিরাপত্তা ফোকাল পয়েন্ট” হিসেবে কাজ করবেন। বার্ষিক সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণরা প্রযুক্তি জগতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলতে পারবে।
৪. সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী কমিউনিটি প্রতিক্রিয়া
কমিউনিটি সহায়তা ডেস্ক, নিরাপদ পরিবহন রুট, পর্যাপ্ত রাস্তার আলোকায়ন, এবং নারী–বান্ধব, সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়াকারী দল গড়ে তোলা—যাতে নারীদের দৈনন্দিন চলাফেরা আরও নিরাপদ হয়।
৫. নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জাতীয় উদ্যোগ
নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক, এবং অফিস–স্কুল–কর্মক্ষেত্রে শিশুসেবা কেন্দ্র বাড়ানোর মাধ্যমে নারীরা যেন নেতৃত্ব দিতে, অর্জন করতে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় অবদান রাখতে পারেন। “নারীরা এগোলে দেশ এগোয়,” তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান দেশবাসীকে আহ্বান জানান—আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যত গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “রাজনীতি, ধর্ম, জাতিসত্তা বা লিঙ্গ যেমনই হোক—একটি সত্য আমাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য: যে বাংলাদেশে নারীরা নিরাপদ, সম্মানিত এবং ক্ষমতায়িত—সেই বাংলাদেশকে থামানো যায় না।”









