লুটপাট রুখতে সার্ট (CIRT) ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সিদ্ধান্ত; জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি।
টোল প্লাজায় ‘ডিজিটাল চুরি’: আইটি অডিট ও ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ
- আপডেট সময় : 03:17:55 pm, Monday, 11 May 2026 70 বার পড়া হয়েছে
টোল ব্যবস্থায় ডিজিটাল অনিয়মের অভিযোগ, আইটি অডিটে যাচ্ছে সরকার
★সার্ট (CIRT) ও ফরেনসিক তদন্তের পরিকল্পনা
★প্রতিমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: “ডিজিটাল চুরির সংস্কৃতি আর চলবে না”
দেশের বিভিন্ন টোল প্লাজায় ডিজিটাল দুর্নীতি অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ‘ডিজিটাল লুটপাটের’ অভিযোগে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। দ্যা টাইমস অব ঢাকায় এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বর্তমানে এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নজরদারি শুরু হয়েছে এবং অনিয়ম রুখতে পূর্ণাঙ্গ আইটি অডিট ও ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও আইটি অডিট
টোল প্লাজাগুলোর ডিজিটাল সিস্টেমে কারচুপি ও তথ্য গায়েবের অভিযোগ এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দিলারা বেগম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা ধারাবাহিকভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ (এভিডেন্স) পাওয়া গেলে পুরো আইটি সিস্টেমের একটি পূর্ণাঙ্গ আইটি অডিট পরিচালনা করা হবে।”
সার্ট (CIRT) ও ফরেনসিক তদন্তের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টোল আদায়ের সার্ভার থেকে তথ্য মুছে ফেলা বা ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে উচ্চতর তদন্তের প্রয়োজন। যুগ্ম সচিব আরও জানান, সম্ভাব্য ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল-এর অধীন ‘সার্ট’ (Computer Incident Response Team)-এর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এই জটিল কারিগরি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট নিয়োগের কাজও শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: “ডিজিটাল চুরির সংস্কৃতি আর চলবে না”
টোল ব্যবস্থাপনায় এই সুসংগঠিত দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, সরকার এই লুটপাটের শিকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে যে ডিজিটাল চুরির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশে প্রত্যেককে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করার প্রশ্নই আসে না।” তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজস্ব ফাঁকির নেপথ্যে যে সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টোল প্লাজাগুলোতে ডিজিটাল ডেটাবেজ থেকে গাড়ির সংখ্যা গোপন করা এবং ম্যানুয়াল রসিদ দিয়ে সংগৃহীত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই এই ‘ডিজিটাল চুরির’ প্রকৃত চিত্র এবং এর পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য এবং মন্ত্রণালয়ের আইটি অডিটের সিদ্ধান্তের পর টোল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি এখন আরও জোরালো হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন মালিকদের প্রত্যাশা, ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এই লুটপাট বন্ধ হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সঠিক রাজস্ব জমা পড়বে।








