ঢাকা 10:40 pm, Tuesday, 28 July 2026

আগের তিন নির্বাচনের কেউ এবার দায়িত্বে থাকবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিলয় মৃধা
  • আপডেট সময় : 08:17:34 am, Sunday, 12 October 2025 624 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী নির্বাচনে গত তিন নির্বাচনের কর্মকর্তারা থাকবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, জানিয়েছেন যে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দায়িত্বপালন করা কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকার যথাসম্ভব তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে।

রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি পথে সম্পন্ন হবে। “আমি দেশে থাকি, আমার সন্তানরা দেশে থাকে; আমার কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই,” তিনি বলেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ কাজ না করার বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বডি ওয়ার্ন ক্যামেরারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে ২৮টি ব্যাচে, তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৬ হাজার ৫০০ জনের একটি ব্যাচ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, আরেক ব্যাচ চলমান রয়েছে। সব ব্যাচের প্রশিক্ষণ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ হবে।

আনসার-ভিডিপির ৫ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজারকে অস্ত্রসহ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজারকে নিরস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য ৩ হাজার ১৫৭ রিক্রুট সিপাহিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবির ১ হাজার ১০০ প্লাটুনে মোট ৩৩ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যার ৬০ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উপদেষ্টা আশা করেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে। মোট প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবারের নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট দলের ঝটিকা মিছিল আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি শান্ত, আইনশৃঙ্খলাও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু ফ্যাসিস্ট ও প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ব্যবস্থা তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগের তিন নির্বাচনের কেউ এবার দায়িত্বে থাকবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : 08:17:34 am, Sunday, 12 October 2025

আগামী নির্বাচনে গত তিন নির্বাচনের কর্মকর্তারা থাকবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, জানিয়েছেন যে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) দায়িত্বপালন করা কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকার যথাসম্ভব তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে চলবে।

রোববার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনি পথে সম্পন্ন হবে। “আমি দেশে থাকি, আমার সন্তানরা দেশে থাকে; আমার কোনো সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই,” তিনি বলেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ কাজ না করার বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বডি ওয়ার্ন ক্যামেরারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে ২৮টি ব্যাচে, তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৬ হাজার ৫০০ জনের একটি ব্যাচ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, আরেক ব্যাচ চলমান রয়েছে। সব ব্যাচের প্রশিক্ষণ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শেষ হবে।

আনসার-ভিডিপির ৫ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজারকে অস্ত্রসহ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজারকে নিরস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য ৩ হাজার ১৫৭ রিক্রুট সিপাহিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বিজিবির ১ হাজার ১০০ প্লাটুনে মোট ৩৩ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যার ৬০ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উপদেষ্টা আশা করেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে। মোট প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবারের নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট দলের ঝটিকা মিছিল আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি শান্ত, আইনশৃঙ্খলাও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু ফ্যাসিস্ট ও প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ব্যবস্থা তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করেছে।