চট্টগ্রামে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত
- আপডেট সময় : 05:16:06 am, Tuesday, 28 October 2025 271 বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী নিহত
চট্টগ্রামে গভীর রাতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদলের এক কর্মী মো. সাজ্জাদ (২২) নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডের বগার বিলমুখ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করেই গোলাগুলির সূত্রপাত হয়।
নিহত সাজ্জাদ ছিলেন বিলুপ্ত নগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) এমদাদুল হক বাদশার অনুসারী।
দলীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষটি হয় এমদাদুল হক বাদশা এবং নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহর অনুসারীদের মধ্যে। ঘটনায় নাম এসেছে সিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বোরহান উদ্দিনের, যিনি নগর ছাত্রদলের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করলেও এখন সংগঠনটির কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি নেই।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একজন নিহত হয়েছেন, কয়েকজন আহত। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার শুরু হয় যখন যুবদল কর্মী মো. জসিম, এমদাদুল হকের অনুসারী, তাকে বোরহান উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম সোহেল অপহরণ করে নিয়ে যান।
জসিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি শাহাদাত হোসেন নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর ছবিসহ সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের ব্যানার সরাতে। সেই নির্দেশে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার খুলতে গেলে বোরহানের ব্যানারেও শাহাদাত ও সিরাজের ছবি দেখতে পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোরহানের অনুসারীরা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে।
জসিমকে অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এমদাদুলের অনুসারীরা তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে বাকলিয়া এক্সেস রোডে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে সাজ্জাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এমদাদুল হক বাদশা বলেন, “মেয়র শাহাদাতের নির্দেশে ব্যানারগুলো নামানো হচ্ছিল। কিন্তু বোরহানের গ্রুপ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জসিমকে তুলে নেয় এবং পরে গুলি চালায়।”
অন্যদিকে গাজী সিরাজ উল্লাহ দাবি করেন, বোরহান ও সোহেল এখন তাঁর অনুসারী নন। “তারা খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে, অনেক আগেই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি,” বলেন তিনি।
রাতে হাসপাতালে নিহত সাজ্জাদের মা ফরিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে কেন গুলি করল? আমি এর বিচার চাই।”
সাজ্জাদের ভাই মোহাম্মদ ইমরান বলেন, তাঁর ভাই ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।






