আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর কতটা গুরুত্ব পেল
- আপডেট সময় : 04:00:23 pm, Monday, 17 November 2025 166 বার পড়া হয়েছে
জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। এই রায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ানসহ বিশ্বজুড়ে অনেক সংবাদমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করে। বিবিসি, আল–জাজিরা এবং ভারতের বেশ কিছু টিভি চ্যানেল রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করে।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়— “বাংলাদেশের সাবেক নেতা শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: বিক্ষোভ দমনে নৃশংসতার অভিযোগ”। প্রতিবেদনে বলা হয়, রায় ঘোষণা হওয়ায় এখন ভারতের ওপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চাপ বাড়তে পারে; যদিও বাস্তবে তা হওয়া কঠিন বলেই বিবিসি মনে করে।
রয়টার্স শিরোনাম করে— “ছাত্রদের দমন–পীড়নের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। তারা জানায়, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায় এমন সময় এসেছে, যখন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা।
রায় ঘোষণার আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বলেন, আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আপিল করবেন না। একই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এএফপি শিরোনাম দেয়— “মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিচারক রায় পড়ে শোনানোর সময় আদালতে উপস্থিত মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এএফপি আরও জানায়, আদালত ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান থেকে দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলেছিল, কিন্তু তিনি সে নির্দেশ মানেননি। বহুল আলোচিত এই রায় জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয়।
আল–জাজিরা সরাসরি সম্প্রচারে শিরোনাম দেয়— “মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের গণ–অভ্যুত্থানের ওপর সহিংস দমন–পীড়নে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এতে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সিএনএন জানায়— “মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীকে মৃত্যুদণ্ড”। তারা জানায়, ছাত্রদের বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর সরকারের পতন ঘটে এবং সেই প্রেক্ষিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে বলে— “মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। এতে বলা হয়, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় অনুপস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শিরোনাম করে— “শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: এরপর কী?”। তারা উল্লেখ করে, যেই ট্রাইব্যুনাল তিনি ২০০৯ সালে যুদ্ধাপরাধ বিচার শুরু করতে গঠন করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ট্রাইব্যুনালই তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করল।
ভারতের দ্য হিন্দু তাদের লাইভ প্রতিবেদনে জানায়— “ছাত্র দমন–পীড়নের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী কামালের মৃত্যুদণ্ড”। প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আদালত প্রক্রিয়ার পর দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের ডন শিরোনাম করে— “ছাত্রদের ওপর দমন–পীড়নের দায়ে বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মৃত্যুদণ্ড”। তারা জানায়, কয়েক মাসের শুনানির পর রায়টি ঘোষণা করা হলো—এমন এক সময়ে, যখন আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।






