এক ব্যক্তি যদি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে তিনি কর্তৃত্ববাদী হয়ে যান: ফখরুল
- আপডেট সময় : 02:50:23 pm, Tuesday, 25 November 2025 427 বার পড়া হয়েছে
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে—কেউ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে শেষ পর্যন্ত কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হয়। তাই দুই মেয়াদের বেশি কাউকে প্রধানমন্ত্রী না রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার প্রস্তাবও রয়েছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে গুণগত পরিবর্তন আনবে, যদিও পরিবর্তনের পথে কিছু বাধা আসাই স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশ এখন রাজনৈতিক রূপান্তরের সময় পার করছে—কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যার লক্ষ্য সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, যেখানে প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ—আপার হাউস ও লোয়ার হাউস—গঠনের প্রস্তাব এসেছে। যদিও এই কাঠামো দেশটিতে নতুন, তিনি মনে করেন—এটি কার্যকরভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করবে।
ফখরুল বলেন, এনসিপি নামে একদল তরুণের রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে, এবং নতুন প্রজন্মের এই শক্তিকে স্বাগত জানানো উচিত। কারণ ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব মূলত তরুণদের হাতেই যাবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন পর্যন্ত দেশ বহু বড় রূপান্তর দেখেছে। এখন নতুন প্রজন্মকে স্বীকৃতি দেওয়া ও তাদের ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বয়োজ্যেষ্ঠদের উচিত তাদের কথা বোঝার চেষ্টা করা—কারণ দুই প্রজন্মের চিন্তাভাবনা একই হওয়া অসম্ভব। এই বোঝাপড়ার অভাবেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
বয়স-সীমা ও কর্মক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানুষের কাজ করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। যোগ্যতা, উদ্যম, মনন—সবই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। তাই সক্রিয় থাকা পর্যন্ত কাজ করে যেতে হবে, এরপর অবসর নেওয়াই স্বাভাবিক। এই কারণেই তিনি ঘোষণা করেন যে বর্তমান নির্বাচনই হবে তাঁর শেষ নির্বাচন।
নিজেকে কেন্দ্র করে হওয়া সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য আসে—অনেকে তাকে অতিরিক্ত সমঝোতার পক্ষপাতী বলেও অভিযোগ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংঘাত, সহিংসতা আর কতদিন চলবে? সমাজকে শান্তির পথে নিয়ে যাওয়া এখন জরুরি।
সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।






