বিশ্বের শীর্ষ নগর হতে যাচ্ছে ঢাকা—তবে প্রস্তুতি কি যথেষ্ট?
- আপডেট সময় : 12:11:38 pm, Wednesday, 26 November 2025 446 বার পড়া হয়েছে
গত ২৫ বছরে জনসংখ্যায় সাত ধাপ এগিয়ে ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনাকীর্ণ নগরী। সামনে রয়েছে শুধু জাকার্তা। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫–এ আভাস দেওয়া হয়েছে, আরও ২৫ বছরের মধ্যেই জাকার্তাকেও পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল শহরে পরিণত হতে পারে ঢাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রবৃদ্ধি ঢাকার জন্য যেমন গুরুত্বের, তেমনি তা নিতে পারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই এখন থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
ধারাবাহিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখ ছাড়াতে পারে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ হবে। এ সময়ে জাকার্তার জনসংখ্যা হতে পারে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লাখ—ঢাকার নিচে দ্বিতীয় স্থানে।
টোকিও, যে শহর একসময় বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে ছিল, বর্তমানে তৃতীয়। ২০৫০ সালে তার অবস্থান আরও পিছিয়ে সাত নম্বরে নেমে যেতে পারে।
ঢাকা কিভাবে শীর্ষে উঠল
এ মুহূর্তে ঢাকার জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৬ লাখের মতো, যা ২০০০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সেই সময়ে ঢাকার অবস্থান ছিল নবম। গত ২৫ বছরে প্রায় ৩ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ঢাকাকে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে তুলে এনেছে।
তবে এই দ্রুত প্রবৃদ্ধিই শহরটিকে বাসস্থান, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, সব দিক থেকেই বড় সংকটে ফেলছে। অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ নাগরিক সুবিধার জন্য গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ উসওয়াতুন মাহেরা বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ মানুষ ঢাকায় আসেন। ফলে আবাসন, পরিবেশ, পানি–বায়ু দূষণসহ সব খাতেই চাপ বাড়ছে। তাঁর মতে, টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই চাপ সামলানো অসম্ভব হয়ে যাবে।
শীর্ষে থাকা অন্য শহরগুলো
২০২৫ সালের তালিকায় ঢাকার পরেই রয়েছে জাকার্তা ও টোকিও। এরপর আছে নয়াদিল্লি, সাংহাই, গুয়াংজু, কায়রো, ম্যানিলা, কলকাতা ও সিউল।
২০৫০ সালের চিত্র পরিবর্তিত হবে—সাংহাই উঠে আসবে তৃতীয় স্থানে, কায়রো ছয় নম্বরে, আর কলকাতা থাকতে পারে দশ নম্বরে।
কেন মানুষ ঢাকামুখী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম জানান, ঢাকায় অভিবাসনের হার জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর কারণ—
গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব
জলবায়ু পরিবর্তনে জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়া
কৃষিজমি কমে যাওয়া
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সুবিধার আকর্ষণ
তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হলে সামনে জনসংখ্যাজনিত সংকট আরও তীব্র হবে।
প্রয়োজন নতুন নগরনীতি ও বিকেন্দ্রীকরণ
বিশেষজ্ঞদের মতে,
নাগরিক সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা
বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানা ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া
আঞ্চলিক শহরগুলোকে উন্নত করে বিকল্প কেন্দ্র গড়ে তোলা
এসবই ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য জরুরি।
তাঁদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সংকট এড়ানো সম্ভব।









