শেখ হাসিনা ‘জনস্বার্থবহির্ভূতভাবে’ সরকারি জমিতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন
- আপডেট সময় : 01:56:18 pm, Thursday, 27 November 2025 496 বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় আবাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত একটি জালিয়াতি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। মামলাটিতে সাবেক সরকারপ্রধান এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবেদন না করেও সাবেক নেত্রী রাষ্ট্র পরিচালিত নতুন শহর প্রকল্পে একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। আদালতের মতে, পরে প্লট হস্তান্তরের জন্য তাঁর আবেদন “ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট আগ্রহ” প্রকাশ করে।
প্রধান বিচারক বলেন, অভিযুক্ত নেত্রী নিজের নামে একটি প্লট এবং ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের নামে আরও কয়েকটি প্লট অনুমোদন করিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, “একাধিক মেয়াদ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেও তিনি সরকারি সম্পদের প্রতি যথাযথ সংযম দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক মামলায়—যা তাঁর ক্ষমতাচ্যুতি-পরবর্তী অস্থির সময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। তাঁর দুই প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সবাই অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়ায় ‘পলাতক’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হন।
কীভাবে মামলা হলো
রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি জানান, জমি বরাদ্দের অনিয়ম প্রথম সামনে আসে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে। পরে দুর্নীতি দমন সংস্থা দশ কাঠা আয়তনের ছয়টি প্লটের বরাদ্দ নিয়ে তদন্তে নামে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের প্রমাণ মেলে। এরপর চলতি বছরের শুরুতে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের তথ্যমতে, অভিযুক্ত নেত্রী ২০০৯ সালে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক প্লট অনুমোদন করেছিলেন। রাজধানীর অন্য এলাকায় তাঁদের মালিকানাধীন সম্পত্তির তথ্য গোপন করা হয়েছিল, যা নিয়মবহির্ভূত।
অবৈধ অনুমোদন ও অনুপস্থিত নথি
রায়ে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সিটি ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না পেয়েও দ্রুততার সাথে প্লট অনুমোদন দেয়। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক নোট ও সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ড থেকে এসব বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়, যা নিয়মবিরুদ্ধ।
নির্ধারিত হলফনামা—যা আবেদনকারীর আর কোনো সরকারি জমি নেই বলে নিশ্চিত করার কথা—ঠিকভাবে নোটারাইজ করা ছিল না এবং তথ্যও অসম্পূর্ণ ছিল। পুরনো একটি বরাদ্দকৃত সম্পত্তির তথ্য সেখানে উল্লেখই ছিল না।
তবুও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সেই নথি গ্রহণ করে বরাদ্দ চূড়ান্ত করে। পরে সাবেক নেত্রী প্লট দখলে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন, যা আদালতের ব্যাখ্যায় “ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যকে আরও স্পষ্ট করে।”
ওই বছরের সেপ্টেম্বরেই সংশ্লিষ্ট প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নামে হস্তান্তর করা হয়।
চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
বিচারক মন্তব্য করেন, সরকারি জমির এমন অনিয়মিত বরাদ্দ প্রকৃত উপযুক্ত আবেদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করার কারণে দণ্ডাদেশ যৌক্তিক হয়েছে।
তিনটি প্রমাণিত অভিযোগে সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়, যা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।









