প্লট না নিলেও টিউলিপের সাজা যে কারণে
- আপডেট সময় : 11:41:19 am, Monday, 1 December 2025 572 বার পড়া হয়েছে
প্লট না পেলেও কেন দণ্ডিত হলেন টিউলিপ সিদ্দিক
পূর্বাচলের ছয়টি প্লট বিতরণ–সংক্রান্ত মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের নামে কোনো প্লট বরাদ্দ না থাকলেও তিনটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি আজ দণ্ডিত হয়েছেন।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করে। জরিমানা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
রায়ের মূল যুক্তি ছিল—টিউলিপ তাঁর মা শেখ রেহানার নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তিনি মোবাইল, অনলাইন অ্যাপ ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবকে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন—যা সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তাঁর পরিবার–পরিজনের নামে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ হয়—হাসিনা নিজে, তাঁর সন্তান জয় ও সায়মা, বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনে–ভাগনিরা (রূপন্তী ও রাদওয়ান)। ২০২২ সালে তাঁরা এসব প্লট গ্রহণ করেন।
গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। জানুয়ারিতে ছয়টি প্লট নিয়ে ছয়টি মামলা করা হয়। অভিযোগ ছিল—আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও প্লট দেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের নামে প্লট বরাদ্দ হয়েছে, তাঁদের রাজউকের আওতাধীন এলাকায় আগে থেকেই বাড়ি ছিল, ফলে তাঁরা আইনি যোগ্যতার বাইরে ছিলেন।
সব মামলায়ই শেখ হাসিনাকে আসামি করা হয় তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদ ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে। টিউলিপকে শেখ রেহানা, রাদওয়ান ও রূপন্তীর মামলায় সহ–আসামি করা হয়।
শেখ রেহানার মামলার তদন্ত নথিতে বলা হয়েছিল—টিউলিপ জানতে পারেন তাঁর খালা ও দুই কাজিন প্লট পাচ্ছেন। এরপর তিনি ব্রিটিশ এমপি হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে তাঁর মা, ভাই ও বোনের জন্যও একই সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন।
শেখ হাসিনা, জয় ও সায়মার মামলার রায় ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। আজ রেহানার মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রাদওয়ান ও রূপন্তীর মামলার রায় এখনো অপেক্ষমাণ—সেসব মামলাতেও টিউলিপ ও হাসিনা আসামি।
বাংলাদেশে কোনো আদালতে বিদেশি দেশের এমপির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো এমন দণ্ডের রায় দেওয়া হলো—এবং টিউলিপ সিদ্দিক অনুপস্থিত থাকতেই রায় হয়।
সরকার পরিবর্তনের পর যুক্তরাজ্যেও তিনি দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। লেবার পার্টির সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁকে সিটি মিনিস্টার করা হলেও অভিযোগ ওঠার পর পদ ছাড়তে হয়।
৪৩ বছর বয়সী টিউলিপ সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসনের এমপি হিসেবে তিনি টানা চারবার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।









