ঢাকা 11:53 pm, Wednesday, 29 July 2026

ইসরায়েল থেকে মুক্ত শহিদুল আলম দেশে ফিরলেন

নিলয় মৃধা
  • আপডেট সময় : 03:24:56 am, Saturday, 11 October 2025 631 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। আজ শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

দেশে ফিরে শহিদুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও প্রার্থনাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। তবে মনে রাখতে হবে, গাজার মানুষ এখনো মুক্ত নয়। তারা এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়।” তাঁর এই বক্তব্য স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৃক–এর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্ক সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মতো আরও হাজার ফ্লোটিলা গাজার উদ্দেশে যাওয়া দরকার—যত দিন না ফিলিস্তিন স্বাধীনতা অর্জন করছে।”

শহিদুল আলম বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।

তাঁকে বরণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী ও গবেষক মুনেম ওয়াসিফসহ অনেকে।

আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে দৃকের ফেসবুক পেজে শহিদুল আলমের দেশে ফেরার ছবি প্রকাশ করা হয়। দৃকের ইনোভেশন ম্যানেজার রাহাত করিমও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান শহিদুল আলম। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৃক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম নাগরিক অধিকারের আন্দোলনেও সক্রিয়। গাজা অভিমুখী এক নৌবহরে অংশ নেওয়ার সময় গত বুধবার তাঁকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধের প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নামের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম এ নৌযাত্রা শুরু করেছিল। নয়টি নৌযানের ওই বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন—যাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল আলমও।

বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী ওই নৌবহরে হামলা চালিয়ে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে। পরে শহিদুল আলমসহ অনেককে নিয়ে যাওয়া হয় ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে।

তাঁর মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

শহিদুল আলমের মুক্তি ও দেশে ফেরার সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েল থেকে মুক্ত শহিদুল আলম দেশে ফিরলেন

আপডেট সময় : 03:24:56 am, Saturday, 11 October 2025

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। আজ শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

দেশে ফিরে শহিদুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও প্রার্থনাই আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। তবে মনে রাখতে হবে, গাজার মানুষ এখনো মুক্ত নয়। তারা এখনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়।” তাঁর এই বক্তব্য স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৃক–এর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্ক সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মতো আরও হাজার ফ্লোটিলা গাজার উদ্দেশে যাওয়া দরকার—যত দিন না ফিলিস্তিন স্বাধীনতা অর্জন করছে।”

শহিদুল আলম বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।

তাঁকে বরণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী ও গবেষক মুনেম ওয়াসিফসহ অনেকে।

আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে দৃকের ফেসবুক পেজে শহিদুল আলমের দেশে ফেরার ছবি প্রকাশ করা হয়। দৃকের ইনোভেশন ম্যানেজার রাহাত করিমও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান শহিদুল আলম। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৃক–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম নাগরিক অধিকারের আন্দোলনেও সক্রিয়। গাজা অভিমুখী এক নৌবহরে অংশ নেওয়ার সময় গত বুধবার তাঁকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও অবরোধের প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন নামের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম এ নৌযাত্রা শুরু করেছিল। নয়টি নৌযানের ওই বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন—যাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল আলমও।

বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী ওই নৌবহরে হামলা চালিয়ে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে। পরে শহিদুল আলমসহ অনেককে নিয়ে যাওয়া হয় ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে।

তাঁর মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

শহিদুল আলমের মুক্তি ও দেশে ফেরার সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।