এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বিকেল চারটা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য
- আপডেট সময় : 08:54:49 am, Tuesday, 14 October 2025 621 বার পড়া হয়েছে
তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো শহীদ মিনারে অবস্থান এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের, বিকেল চারটা পর্যন্ত আলটিমেটাম
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তিন দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আজ মঙ্গলবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শিক্ষা উপদেষ্টার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর অনুরোধে তাঁরা আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পিছিয়ে দিয়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে তাঁরা বিকেল চারটার পর সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করবেন।
আজ সকালে শিক্ষা উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শিক্ষকনেতারা তা নাকচ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, “সচিবালয়ের দিকে লংমার্চের সিদ্ধান্ত থেকে আমরা সরে আসছি না।”
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে একটি দল শহীদ মিনারে আসে এবং আন্দোলনকারীদের লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানায়। এ সময় আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর সদস্যসচিব দেলওয়ার হোসেন আজিজী একটি ফোনকল পান। পরে তিনি জানান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁকে ফোনে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
দেলওয়ার হোসেন আজিজী প্রথম আলোকে বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি মেনে নেওয়া হবে, তবে প্রজ্ঞাপন জারি করতে কিছুটা সময় লাগবে। আমাদের লংমার্চ না করতে বলা হয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহও একই আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা স্পষ্ট করেছি—প্রজ্ঞাপন ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে দাবি মানা ও প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আমরা সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করব।”
সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায়, হাজারো শিক্ষক-কর্মচারী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবি হলো—
১️⃣ মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া,
২️⃣ শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়ের জন্য দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা,
৩️⃣ কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা।
খুলনা থেকে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজশিক্ষক সুদাস চন্দ্র দাস বলেন,
“শিক্ষকেরা ন্যায় ও সততার পথে চলেন। কিন্তু তাঁদের বর্তমান বেতন-ভাতা দিয়ে সংসার চলে না। পেটে ক্ষুধা থাকলে শিক্ষকতা কেমন করে সম্ভব? সরকারের উচিত শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া।






