ঢাকা 11:37 pm, Wednesday, 29 July 2026

কাইয়ূম কি সত্যিই বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করেছেন?

কি কারনে এমপি দৌড়ে বিতর্কিত কাইয়ূম ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 06:28:05 am, Saturday, 18 October 2025 807 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে রয়েছে শক্ত অবস্থানে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া দলটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতে এগিয়ে চলছে। বিএনপির এই সুদৃঢ় অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নিঃস্বার্থে ব্যবহার করে দলের কতিপয় নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন দলটির আশা-ভরসার কান্ডারী তারেক রহমান। দলীয় মনোনয়ন থেকে তাদের নাম কেটে দিচ্ছেন তিনি।

এমনই এক অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওয়াকিল উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বদেশ প্রপার্টিজ-এর অংশীদার বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ূম এর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের ওয়াকিল ও বিএনপির সাবেক কমিশনার কাইয়ূমের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রমাণ মেলে আরজিএসসির নথিতে। স্বর্ণ চোরাচালানকারী গোল্ডেন মনির-এর কাছ থেকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি আইন অনুযায়ী জুলাই অভ্যুত্থানের আগে-পরে স্বদেশ প্রপার্টিজ-এর অংশীদারিত্ব বুঝে নেন এম এ কাইয়ূম। এসব তথ্য দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংক্ষুব্ধ এম এ কাইয়ূম মামলা করার পথ বেছে নেন, যা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট কায়দার প্রতিবিম্ব বলে মনে করছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

এম এ কাইয়ূমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, সম্পদের তথ্য গোপন, আওয়ামী লীগের সাথে নেটওয়ার্ক রেখে ব্যবসা পরিচালনা করা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নাসিমের হাসপাতালের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওয়াকিল উদ্দিন, স্থানীয় সন্ত্রাসী মোবারক দেওয়ান ও চোরাকারবারি গোল্ডেন মনিরের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন না তিনি—এমনটাই ধারণা করছেন স্থানীয় জনতা।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কাইয়ূমের মনোনয়ন না পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিজে মনোনয়ন না পেয়ে স্ত্রীকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উঠে পড়ে লেগেছেন কাইয়ূম। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যেই কাইয়ূমের নাম বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এম এ কাইয়ূম ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন।

তাছাড়া, কাইয়ূমের বিরুদ্ধে বনশ্রী, রামপুরা, এবং দক্ষিণখান এলাকায় অবৈধ জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কাইয়ূম তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে সহায়তা করেছেন, যা পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে হস্তান্তর করা হয়।

দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের নির্দেশে বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সততা, ত্যাগ ও দলের প্রতি নিবেদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, বিতর্কিত ও অভিযোগে জর্জরিত নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি। ফলে কাইয়ূমের সম্ভাবনা কার্যত শূন্যের কোঠায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আনোয়ারুল কবির মনে করেন,

“বিএনপি এবার এমন প্রার্থীদের প্রাধান্য দিচ্ছে যারা তৃণমূলে কাজ করেছেন এবং জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত। কাইয়ূমের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ আর্থিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক অস্পষ্টতা আছে, তাতে তার মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”

এদিকে, স্বদেশ প্রপার্টিজ সম্পর্কিত একাধিক আর্থিক নথি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেনে গোল্ডেন মনিরের ছায়া পাওয়া গেছে, যা কাইয়ূমের ব্যবসায়িক সততা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় তৃণমূলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কাইয়ূম দলীয় কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা—

কাইয়ূম কি সত্যিই বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করেছেন?

নাকি এটি কেবল একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের কৌশল?

সব মিলিয়ে, বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এম এ কাইয়ূম এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। দলীয় সূত্রের ভাষায়—

“মনোনয়নের তালিকা থেকে তার নাম মুছে ফেলার সম্ভাবনা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাইয়ূম কি সত্যিই বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করেছেন?

কি কারনে এমপি দৌড়ে বিতর্কিত কাইয়ূম ?

আপডেট সময় : 06:28:05 am, Saturday, 18 October 2025

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে রয়েছে শক্ত অবস্থানে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া দলটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিতে এগিয়ে চলছে। বিএনপির এই সুদৃঢ় অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নিঃস্বার্থে ব্যবহার করে দলের কতিপয় নেতারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন দলটির আশা-ভরসার কান্ডারী তারেক রহমান। দলীয় মনোনয়ন থেকে তাদের নাম কেটে দিচ্ছেন তিনি।

এমনই এক অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওয়াকিল উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বদেশ প্রপার্টিজ-এর অংশীদার বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ূম এর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের ওয়াকিল ও বিএনপির সাবেক কমিশনার কাইয়ূমের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রমাণ মেলে আরজিএসসির নথিতে। স্বর্ণ চোরাচালানকারী গোল্ডেন মনির-এর কাছ থেকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি আইন অনুযায়ী জুলাই অভ্যুত্থানের আগে-পরে স্বদেশ প্রপার্টিজ-এর অংশীদারিত্ব বুঝে নেন এম এ কাইয়ূম। এসব তথ্য দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংক্ষুব্ধ এম এ কাইয়ূম মামলা করার পথ বেছে নেন, যা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট কায়দার প্রতিবিম্ব বলে মনে করছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

এম এ কাইয়ূমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, সম্পদের তথ্য গোপন, আওয়ামী লীগের সাথে নেটওয়ার্ক রেখে ব্যবসা পরিচালনা করা, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নাসিমের হাসপাতালের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওয়াকিল উদ্দিন, স্থানীয় সন্ত্রাসী মোবারক দেওয়ান ও চোরাকারবারি গোল্ডেন মনিরের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন না তিনি—এমনটাই ধারণা করছেন স্থানীয় জনতা।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কাইয়ূমের মনোনয়ন না পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিজে মনোনয়ন না পেয়ে স্ত্রীকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উঠে পড়ে লেগেছেন কাইয়ূম। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যেই কাইয়ূমের নাম বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এম এ কাইয়ূম ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন।

তাছাড়া, কাইয়ূমের বিরুদ্ধে বনশ্রী, রামপুরা, এবং দক্ষিণখান এলাকায় অবৈধ জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কাইয়ূম তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে সহায়তা করেছেন, যা পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে হস্তান্তর করা হয়।

দলীয় সূত্র বলছে, তারেক রহমানের নির্দেশে বর্তমানে বিএনপির মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সততা, ত্যাগ ও দলের প্রতি নিবেদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, বিতর্কিত ও অভিযোগে জর্জরিত নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি। ফলে কাইয়ূমের সম্ভাবনা কার্যত শূন্যের কোঠায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আনোয়ারুল কবির মনে করেন,

“বিএনপি এবার এমন প্রার্থীদের প্রাধান্য দিচ্ছে যারা তৃণমূলে কাজ করেছেন এবং জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত। কাইয়ূমের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ আর্থিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক অস্পষ্টতা আছে, তাতে তার মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”

এদিকে, স্বদেশ প্রপার্টিজ সম্পর্কিত একাধিক আর্থিক নথি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেনে গোল্ডেন মনিরের ছায়া পাওয়া গেছে, যা কাইয়ূমের ব্যবসায়িক সততা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় তৃণমূলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কাইয়ূম দলীয় কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং মনোনয়নের জন্য বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা—

কাইয়ূম কি সত্যিই বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করেছেন?

নাকি এটি কেবল একটি পরিকল্পিত চরিত্রহননের কৌশল?

সব মিলিয়ে, বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এম এ কাইয়ূম এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। দলীয় সূত্রের ভাষায়—

“মনোনয়নের তালিকা থেকে তার নাম মুছে ফেলার সম্ভাবনা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”