ঢাকা 8:17 pm, Tuesday, 28 July 2026

সেই ছবিটাই প্রমাণ করে—এটা আত্মহত্যা নয়, খুন’ — নীলা চৌধুরী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 09:47:25 am, Friday, 24 October 2025 297 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 ‘সেই ছবিটাই প্রমাণ করে—এটা আত্মহত্যা নয়, খুন’ — নীলা চৌধুরী

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ-এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করা হবে।


“এত বছর পর একটা ভরসার জায়গা পেলাম।”

নীলা চৌধুরী: অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। ভাবিনি মামলার অগ্রগতি এত দ্রুত হবে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তবে মনটা খুব ফাঁকা লাগছে। শরীর–মন দুটোই শূন্য লাগছে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, এখন সেই হত্যার মামলা শুরু হচ্ছে—এইটুকুই তৃপ্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এত বছর লড়াই করে অবশেষে ন্যায়বিচারের আলো দেখছি।


“এই ২৯ বছর আমাকে অপমান সহ্য করতে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: এই বছরগুলোতে কত মানুষ আমাকে দোষ দিয়েছে, আমার ছেলেকেও অপবাদ দিয়েছে। কেউ বলেছে আমি নাকি নিজেই ছেলেকে মেরেছি, কেউ বলেছে ছেলেটা খারাপ ছিল। সামিরা, আজিজ, ডন—সবাই কোনো না কোনোভাবে আমাকে অভিযুক্ত করেছে। তবুও আমি বিশ্বাস হারাইনি। জানতাম, একদিন আইনের কাঠগড়ায় প্রমাণ হবে এটা খুন। আদালতের সোমবারের মন্তব্য আমাকে কিছুটা মানসিক শান্তি দিয়েছে।


“বিশ্বাস আছে, আল্লাহ একদিন বিচার দেবেন।”

নীলা চৌধুরী: আমি মনে করি, এখন ন্যায়বিচার পাওয়া শুরু হয়েছে। ইনশা আল্লাহ, শেষ পর্যন্ত আমি ন্যায়বিচার পাব। যারা মিথ্যা রটনা করেছে, ভয় দেখিয়েছে—তাদের বিচার হবেই।


“এক মাস আগেও হুমকি পেয়েছি।”

নীলা চৌধুরী: এক মাস আগেই ডন আমাকে হুমকি দিয়েছে—বলেছে প্রেসক্লাবের সামনে দেখা করতে। ভাবা যায়! যে একসময় আমার ছেলের পেছনে ঘুরত, আজ সে আমাকে ভয় দেখাচ্ছে!


“টাকা আর মিডিয়া সিন্ডিকেটে ন্যায়বিচার আটকে গিয়েছিল।”

নীলা চৌধুরী: সাংবাদিকরা জানেন, কীভাবে সত্যটা আড়াল করা হয়েছিল। আজিজ মোহাম্মদ টাকার জোরে সালমানকে খারাপ মানুষ, লম্পট, আত্মঘাতী হিসেবে প্রচার করেছে। একটা শক্তিশালী মিডিয়া সিন্ডিকেট তখন কাজ করেছে, যারা চায়নি সত্য প্রকাশ পাক। তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।


“ন্যায়বিচার পাব বলেই হাল ছাড়িনি।”

নীলা চৌধুরী: আমরা প্রথম থেকেই জানতাম এটা খুন। প্রমাণের জন্য আমি লড়াই চালিয়ে গেছি। ২০০২ সালে হজে গিয়েও আল্লাহর কাছে শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। মনে হয়েছিল, মরার পর না হোক, একদিন আমি বিচার দেখবই।


“সালমান আত্মহত্যা করার মতো মানুষই ছিল না।”

নীলা চৌধুরী: সালমান তার বাবাকে ডাকত মিস্টার নেগেটিভ, আমাকে বলত নেত্রী। খুব আদর করত। রাতে আমার পাশে এসে বসত, কথা বলত। সংসারে অশান্তি ছিল, সামিরা তাকে কষ্ট দিত। একদিন বলেছিল, ‘আম্মা, ও নিজেই চলে যাবে, আমার ছাড়ার দরকার হবে না।’ সে তালাকনামা পাঠানোর কথাও বলেছিল।
তাহলে এমন মানুষ কেন আত্মহত্যা করবে? মৃত্যুর আগের দিনও সে এতিমখানা গড়ার পরিকল্পনা করছিল আমার সঙ্গে। এ রকম একজন মানুষ আত্মহত্যা করবে—এটা কখনো বিশ্বাসযোগ্য নয়।


“নিজের নিরাপত্তার জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: হ্যাঁ, ভয় ছিল। আমাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার ভাইও ঝুঁকিতে ছিল। তাই ২০১৮ সালে লন্ডনে চলে যাই। এখান থেকেই মামলা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন। না হলে তারা আবার পালিয়ে যাবে।


“এবার হয়তো সত্যিই আসামিরা ধরা পড়বে।”

নীলা চৌধুরী: আগে যাঁরা ক্ষমতাবান ছিলেন, তাঁরা মামলাটা চাপা দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, মামলা চালু থাকলে খুন প্রমাণ হয়ে যেত। এবার হয়তো আর কেউ পার পাবে না। অতীতে অনেক কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু এখন আশাবাদী।


“বিচার চাইতে গিয়ে অপমানও সহ্য করতে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: কখনো আদালত এমন রায় দিয়েছে, যাতে দুই পক্ষই খুশি থাকে—এটা কি বিচার? বিচারক পর্যন্ত আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। একবার শুনানি বাতিল করে দিয়েছিলেন পারিবারিক কারণে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তিনি বলেছিলেন, ‘এই মামলা মৃত, আর কিছু হবে না।’
আমি তাঁকে সালমানের লাশের একটা ছবি দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেখাতে পারিনি। অথচ সেই ছবিটাই প্রমাণ করে এটা আত্মহত্যা নয়, খুন।
পরে পিবিআই কর্মকর্তা মনোজ কুমার আমাকে অপমান করেছেন, বলেছেন পুরোনো মামলা নিয়ে নাকি হাস্যকর কাজ করছি। তখনই বুঝেছিলাম, সামিরার প্রভাব সর্বত্র আছে। তবু আমি চুপ থেকেছি, ধৈর্য ধরেছি।


“এটা পরিকল্পিত খুন ছিল।”

নীলা চৌধুরী: খুন আর আত্মহত্যার চিহ্ন এক না—ওর শরীরেই সেটা স্পষ্ট ছিল। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে লোক এনেছিল, তারাই খুনে অংশ নেয়। বিল্ডিংয়ের কয়েকটা ফ্ল্যাট ছিল আজিজ মোহাম্মদ-এর ভাড়া নেওয়া, সেখানে তার লোক থাকত। আমি ২৯ বছর ধরে একই কথা বলে যাচ্ছি—আমার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না।


“সেই ছবিটাই স্পষ্ট প্রমাণ—এটা আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত খুন।” — নীলা চৌধুরী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সেই ছবিটাই প্রমাণ করে—এটা আত্মহত্যা নয়, খুন’ — নীলা চৌধুরী

আপডেট সময় : 09:47:25 am, Friday, 24 October 2025

 ‘সেই ছবিটাই প্রমাণ করে—এটা আত্মহত্যা নয়, খুন’ — নীলা চৌধুরী

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ-এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করা হবে।


“এত বছর পর একটা ভরসার জায়গা পেলাম।”

নীলা চৌধুরী: অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। ভাবিনি মামলার অগ্রগতি এত দ্রুত হবে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। তবে মনটা খুব ফাঁকা লাগছে। শরীর–মন দুটোই শূন্য লাগছে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, এখন সেই হত্যার মামলা শুরু হচ্ছে—এইটুকুই তৃপ্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এত বছর লড়াই করে অবশেষে ন্যায়বিচারের আলো দেখছি।


“এই ২৯ বছর আমাকে অপমান সহ্য করতে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: এই বছরগুলোতে কত মানুষ আমাকে দোষ দিয়েছে, আমার ছেলেকেও অপবাদ দিয়েছে। কেউ বলেছে আমি নাকি নিজেই ছেলেকে মেরেছি, কেউ বলেছে ছেলেটা খারাপ ছিল। সামিরা, আজিজ, ডন—সবাই কোনো না কোনোভাবে আমাকে অভিযুক্ত করেছে। তবুও আমি বিশ্বাস হারাইনি। জানতাম, একদিন আইনের কাঠগড়ায় প্রমাণ হবে এটা খুন। আদালতের সোমবারের মন্তব্য আমাকে কিছুটা মানসিক শান্তি দিয়েছে।


“বিশ্বাস আছে, আল্লাহ একদিন বিচার দেবেন।”

নীলা চৌধুরী: আমি মনে করি, এখন ন্যায়বিচার পাওয়া শুরু হয়েছে। ইনশা আল্লাহ, শেষ পর্যন্ত আমি ন্যায়বিচার পাব। যারা মিথ্যা রটনা করেছে, ভয় দেখিয়েছে—তাদের বিচার হবেই।


“এক মাস আগেও হুমকি পেয়েছি।”

নীলা চৌধুরী: এক মাস আগেই ডন আমাকে হুমকি দিয়েছে—বলেছে প্রেসক্লাবের সামনে দেখা করতে। ভাবা যায়! যে একসময় আমার ছেলের পেছনে ঘুরত, আজ সে আমাকে ভয় দেখাচ্ছে!


“টাকা আর মিডিয়া সিন্ডিকেটে ন্যায়বিচার আটকে গিয়েছিল।”

নীলা চৌধুরী: সাংবাদিকরা জানেন, কীভাবে সত্যটা আড়াল করা হয়েছিল। আজিজ মোহাম্মদ টাকার জোরে সালমানকে খারাপ মানুষ, লম্পট, আত্মঘাতী হিসেবে প্রচার করেছে। একটা শক্তিশালী মিডিয়া সিন্ডিকেট তখন কাজ করেছে, যারা চায়নি সত্য প্রকাশ পাক। তারা বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।


“ন্যায়বিচার পাব বলেই হাল ছাড়িনি।”

নীলা চৌধুরী: আমরা প্রথম থেকেই জানতাম এটা খুন। প্রমাণের জন্য আমি লড়াই চালিয়ে গেছি। ২০০২ সালে হজে গিয়েও আল্লাহর কাছে শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। মনে হয়েছিল, মরার পর না হোক, একদিন আমি বিচার দেখবই।


“সালমান আত্মহত্যা করার মতো মানুষই ছিল না।”

নীলা চৌধুরী: সালমান তার বাবাকে ডাকত মিস্টার নেগেটিভ, আমাকে বলত নেত্রী। খুব আদর করত। রাতে আমার পাশে এসে বসত, কথা বলত। সংসারে অশান্তি ছিল, সামিরা তাকে কষ্ট দিত। একদিন বলেছিল, ‘আম্মা, ও নিজেই চলে যাবে, আমার ছাড়ার দরকার হবে না।’ সে তালাকনামা পাঠানোর কথাও বলেছিল।
তাহলে এমন মানুষ কেন আত্মহত্যা করবে? মৃত্যুর আগের দিনও সে এতিমখানা গড়ার পরিকল্পনা করছিল আমার সঙ্গে। এ রকম একজন মানুষ আত্মহত্যা করবে—এটা কখনো বিশ্বাসযোগ্য নয়।


“নিজের নিরাপত্তার জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: হ্যাঁ, ভয় ছিল। আমাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার ভাইও ঝুঁকিতে ছিল। তাই ২০১৮ সালে লন্ডনে চলে যাই। এখান থেকেই মামলা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন। না হলে তারা আবার পালিয়ে যাবে।


“এবার হয়তো সত্যিই আসামিরা ধরা পড়বে।”

নীলা চৌধুরী: আগে যাঁরা ক্ষমতাবান ছিলেন, তাঁরা মামলাটা চাপা দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, মামলা চালু থাকলে খুন প্রমাণ হয়ে যেত। এবার হয়তো আর কেউ পার পাবে না। অতীতে অনেক কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু এখন আশাবাদী।


“বিচার চাইতে গিয়ে অপমানও সহ্য করতে হয়েছে।”

নীলা চৌধুরী: কখনো আদালত এমন রায় দিয়েছে, যাতে দুই পক্ষই খুশি থাকে—এটা কি বিচার? বিচারক পর্যন্ত আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। একবার শুনানি বাতিল করে দিয়েছিলেন পারিবারিক কারণে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তিনি বলেছিলেন, ‘এই মামলা মৃত, আর কিছু হবে না।’
আমি তাঁকে সালমানের লাশের একটা ছবি দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেখাতে পারিনি। অথচ সেই ছবিটাই প্রমাণ করে এটা আত্মহত্যা নয়, খুন।
পরে পিবিআই কর্মকর্তা মনোজ কুমার আমাকে অপমান করেছেন, বলেছেন পুরোনো মামলা নিয়ে নাকি হাস্যকর কাজ করছি। তখনই বুঝেছিলাম, সামিরার প্রভাব সর্বত্র আছে। তবু আমি চুপ থেকেছি, ধৈর্য ধরেছি।


“এটা পরিকল্পিত খুন ছিল।”

নীলা চৌধুরী: খুন আর আত্মহত্যার চিহ্ন এক না—ওর শরীরেই সেটা স্পষ্ট ছিল। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে লোক এনেছিল, তারাই খুনে অংশ নেয়। বিল্ডিংয়ের কয়েকটা ফ্ল্যাট ছিল আজিজ মোহাম্মদ-এর ভাড়া নেওয়া, সেখানে তার লোক থাকত। আমি ২৯ বছর ধরে একই কথা বলে যাচ্ছি—আমার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না।


“সেই ছবিটাই স্পষ্ট প্রমাণ—এটা আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত খুন।” — নীলা চৌধুরী