ঢাকা 11:58 pm, Wednesday, 29 July 2026

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, সরকারি অবহেলার পরিণতি বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 02:27:13 pm, Wednesday, 5 November 2025 176 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়—মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত—ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। চলতি বছর এক দিনে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল আগের দিন। সেই হিসাবে, এবারই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু ঘটল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩০২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুই আসলে প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। বহুবার সতর্ক করার পরও সরকার গুরুত্ব দেয়নি। এই মৃত্যুগুলো নিছক অবহেলার ফল।”

একই সময়ে ১,০৬৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪,৯৯২।

সর্বশেষ মৃত্যুর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে—তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও দুজন ল্যাবএইড হাসপাতালে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন—দুজন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও একজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া ভোলা ও খুলনায় মারা গেছেন আরও দুজন।

সাম্প্রতিক সংক্রমণের মধ্যে ৪০৮ জন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১৪ জন, যার মধ্যে গাজীপুরে ৬৫ জন। বরিশাল বিভাগে এখনো সংক্রমণ সর্বোচ্চ—এক দিনে ১২৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বরগুনায় ৪৭ জন।

বছরের শুরুতেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৫ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। অক্টোবরের শেষ দিকে এসে শুধু একটি সতর্কতা জারি করে বলা হয়, “জ্বর হলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন।” কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালে সহজ ও কম খরচের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। এর দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার ও পৌরসভার। কিন্তু এসব পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, জনপ্রতিনিধি থাকলে অন্তত কিছুটা হলেও মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হতো।

অক্টোবরের শেষ দিকের বৃষ্টি ও নভেম্বরের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া ডেঙ্গু বিস্তারে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এখন যে হারে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন—পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, সরকারি অবহেলার পরিণতি বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা

আপডেট সময় : 02:27:13 pm, Wednesday, 5 November 2025

ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়—মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত—ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। চলতি বছর এক দিনে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল আগের দিন। সেই হিসাবে, এবারই প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু ঘটল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩০২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুই আসলে প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি। বহুবার সতর্ক করার পরও সরকার গুরুত্ব দেয়নি। এই মৃত্যুগুলো নিছক অবহেলার ফল।”

একই সময়ে ১,০৬৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪,৯৯২।

সর্বশেষ মৃত্যুর মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে—তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও দুজন ল্যাবএইড হাসপাতালে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন—দুজন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও একজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া ভোলা ও খুলনায় মারা গেছেন আরও দুজন।

সাম্প্রতিক সংক্রমণের মধ্যে ৪০৮ জন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১৪ জন, যার মধ্যে গাজীপুরে ৬৫ জন। বরিশাল বিভাগে এখনো সংক্রমণ সর্বোচ্চ—এক দিনে ১২৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বরগুনায় ৪৭ জন।

বছরের শুরুতেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৫ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। অক্টোবরের শেষ দিকে এসে শুধু একটি সতর্কতা জারি করে বলা হয়, “জ্বর হলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করুন।” কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালে সহজ ও কম খরচের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। এর দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার ও পৌরসভার। কিন্তু এসব পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, জনপ্রতিনিধি থাকলে অন্তত কিছুটা হলেও মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হতো।

অক্টোবরের শেষ দিকের বৃষ্টি ও নভেম্বরের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া ডেঙ্গু বিস্তারে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এখন যে হারে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন—পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।