ঢাকা 2:07 am, Friday, 31 July 2026

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এ রোগ মোকাবিলার কৌশল পাল্টাতে হবে।

ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় বদলাচ্ছে, বেড়েছে নভেম্বরে, কারণ কী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 07:20:41 am, Saturday, 8 November 2025 185 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“ডেঙ্গুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস এখন নভেম্বর।”

 

২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেঙ্গু মৃত্যুর গ্রাফ বলছে—আগস্টই ছিল সবচেয়ে ঝুঁকির মাস, যেখানে মাসপ্রতি গড় মৃত্যু ছিল প্রায় ৮.৮ জন। একই সময়ে নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২.৯ জন।

কিন্তু ২০২১–এর পর থেকে চিত্র পুরো বদলে যায়।

এখন দেখা যাচ্ছে—

✅ নভেম্বরই ডেঙ্গু মৃত্যুর শীর্ষ মাস, গড়ে ১৮৬.৬ জন মৃত্যুর সঙ্গে।

✅ অক্টোবরে গড় মৃত্যু প্রায় ১৬৪ জন।

✅ সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ১৪৬ জন।

✅ আর আগস্টে নতুন গড় দাঁড়িয়েছে ১০৪.৭ জন—যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হলেও আর শীর্ষে নেই।

নাজমুল হায়দার জানিয়েছেন, ঋতুচক্র, পরিবেশ ও রোগের আচরণগত পরিবর্তন—ডেঙ্গুর মতো রোগে খুবই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন,

এখন অক্টোবরে (বর্ষার শেষ দিকে) রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়,

কিন্তু নভেম্বরে (শীত শুরু হওয়ার আগে) মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ।

তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো বোঝা, কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।

“মশা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”

অধ্যাপক হালিমুর রশীদ, সাবেক পরিচালক, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা

বিশেষজ্ঞরা বলেন—ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সময়ভিত্তিক গবেষণা ও ডেটা বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি।

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিতভাবে এ কাজের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও এতে যথাযথ পরিকল্পনা আছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন—ডেঙ্গু বিস্তারের সময় যে বদলে গেছে, তা স্পষ্ট।

তার ভাষায়:

রোগ ছড়ায় মশার মাধ্যমে,

তাই মশা দমনের পদ্ধতিতে প্রচলিত একঘেয়ে উদ্যোগের বাইরে পরিবর্তন আনা জরুরি।

“ডেঙ্গু এখন পুরো বছরের রোগ—বর্ষার পর চিকিৎসা প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে–নজির আহমেদ

যে রোগ একসময় কেবল বর্ষার সময় দেখা যেত, এখন তা সারা বছরই ছড়াচ্ছে।

তাই মোকাবিলার কৌশলেও বড় পরিবর্তন প্রয়োজন।

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন—

বর্তমান মশানিধন ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে হতে পারে। পাশাপাশি:

বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis) ব্যবহার,

উলবেকিয়া-সংক্রমিত মশা ছাড়ার মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

বে–নজির আহমেদের মতে, শুধু মশা নিধনই নয়—চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতিও বহুগুণ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুকে এখন বারোমাসি রোগ হিসেবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করা ছাড়া উপায় নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এ রোগ মোকাবিলার কৌশল পাল্টাতে হবে।

ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় বদলাচ্ছে, বেড়েছে নভেম্বরে, কারণ কী

আপডেট সময় : 07:20:41 am, Saturday, 8 November 2025

“ডেঙ্গুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস এখন নভেম্বর।”

 

২০০০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেঙ্গু মৃত্যুর গ্রাফ বলছে—আগস্টই ছিল সবচেয়ে ঝুঁকির মাস, যেখানে মাসপ্রতি গড় মৃত্যু ছিল প্রায় ৮.৮ জন। একই সময়ে নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২.৯ জন।

কিন্তু ২০২১–এর পর থেকে চিত্র পুরো বদলে যায়।

এখন দেখা যাচ্ছে—

✅ নভেম্বরই ডেঙ্গু মৃত্যুর শীর্ষ মাস, গড়ে ১৮৬.৬ জন মৃত্যুর সঙ্গে।

✅ অক্টোবরে গড় মৃত্যু প্রায় ১৬৪ জন।

✅ সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ১৪৬ জন।

✅ আর আগস্টে নতুন গড় দাঁড়িয়েছে ১০৪.৭ জন—যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হলেও আর শীর্ষে নেই।

নাজমুল হায়দার জানিয়েছেন, ঋতুচক্র, পরিবেশ ও রোগের আচরণগত পরিবর্তন—ডেঙ্গুর মতো রোগে খুবই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন,

এখন অক্টোবরে (বর্ষার শেষ দিকে) রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়,

কিন্তু নভেম্বরে (শীত শুরু হওয়ার আগে) মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ।

তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো বোঝা, কারণ খুঁজে বের করা এবং প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।

“মশা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”

অধ্যাপক হালিমুর রশীদ, সাবেক পরিচালক, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা

বিশেষজ্ঞরা বলেন—ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সময়ভিত্তিক গবেষণা ও ডেটা বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি।

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিতভাবে এ কাজের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও এতে যথাযথ পরিকল্পনা আছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন—ডেঙ্গু বিস্তারের সময় যে বদলে গেছে, তা স্পষ্ট।

তার ভাষায়:

রোগ ছড়ায় মশার মাধ্যমে,

তাই মশা দমনের পদ্ধতিতে প্রচলিত একঘেয়ে উদ্যোগের বাইরে পরিবর্তন আনা জরুরি।

“ডেঙ্গু এখন পুরো বছরের রোগ—বর্ষার পর চিকিৎসা প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে–নজির আহমেদ

যে রোগ একসময় কেবল বর্ষার সময় দেখা যেত, এখন তা সারা বছরই ছড়াচ্ছে।

তাই মোকাবিলার কৌশলেও বড় পরিবর্তন প্রয়োজন।

আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন—

বর্তমান মশানিধন ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে হতে পারে। পাশাপাশি:

বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis) ব্যবহার,

উলবেকিয়া-সংক্রমিত মশা ছাড়ার মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

বে–নজির আহমেদের মতে, শুধু মশা নিধনই নয়—চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতিও বহুগুণ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুকে এখন বারোমাসি রোগ হিসেবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা করা ছাড়া উপায় নেই।