ঢাকা 8:33 pm, Tuesday, 28 July 2026

বিবাহবার্ষিকীর দিনেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : 11:22:16 am, Monday, 17 November 2025 178 বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

**গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষিত রায়টি শেখ হাসিনার বিবাহবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়। ১৯৬৭ সালের এই দিনে তিনি পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ আলী এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শিক্ষার সময় তাঁদের বিয়ে হয়। ড. ওয়াজেদ আলী ৯ মে ২০০৯ সালে মারা যান।

রায়টি ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ, যার চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, আর অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদবিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

রায় ঘোষণার সময় আদালতে জনাকীর্ণ ছিল, আইনজীবীদের পাশাপাশি জুলাই–অগাস্টে নিহতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়েছে ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ, যেখানে ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া ও রংপুরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন থেকে অংশ পাঠ করা হয়। দুপুর সোয়া একটার দিকে গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড শোনানো হয়, যার মধ্যে ছিলেন সেই সময়ের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

শেখ হাসিনার সঙ্গে এই মামলার অন্যান্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৩ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল এবং আজ (১৭ নভেম্বর) তা কার্যকর করা হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিবাহবার্ষিকীর দিনেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়

আপডেট সময় : 11:22:16 am, Monday, 17 November 2025

**গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষিত রায়টি শেখ হাসিনার বিবাহবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়। ১৯৬৭ সালের এই দিনে তিনি পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ আলী এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শিক্ষার সময় তাঁদের বিয়ে হয়। ড. ওয়াজেদ আলী ৯ মে ২০০৯ সালে মারা যান।

রায়টি ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বেঞ্চ, যার চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, আর অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদবিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

রায় ঘোষণার সময় আদালতে জনাকীর্ণ ছিল, আইনজীবীদের পাশাপাশি জুলাই–অগাস্টে নিহতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়েছে ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ, যেখানে ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া ও রংপুরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন থেকে অংশ পাঠ করা হয়। দুপুর সোয়া একটার দিকে গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড শোনানো হয়, যার মধ্যে ছিলেন সেই সময়ের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

শেখ হাসিনার সঙ্গে এই মামলার অন্যান্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৩ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিল এবং আজ (১৭ নভেম্বর) তা কার্যকর করা হলো।