বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় রবিবার রাতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য প্রফেসর এফ এম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় ভুগছেন। তার শরীরে স্থায়ী পেসমেকার বসানো রয়েছে এবং আগেও স্টেন্ট দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া মাইট্রাল স্টেনোসিস নামের হার্টের একটি সমস্যায়ও আক্রান্ত, যা হৃদ্যন্ত্রের একটি ভাল্বের স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
সিদ্দিকীর ভাষায়, সাম্প্রতিক সংক্রমণ একসঙ্গে তার হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করেছে, ফলে তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু রিপোর্ট পাওয়া যাবে। তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং আগামী কয়েক ঘণ্টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তিনি সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা নিচ্ছেন এবং কেবিনে রাখা হয়েছে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তার শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে তিনি হাসপাতালে যান। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্যই তাকে ভর্তি করা হয়।
গত ১৫ অক্টোবরও তিনি চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং এক রাত অবস্থান করে ফিরে আসেন।
৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ বহুদিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, কিডনি সমস্যা, ফুসফুসজনিত জটিলতা ও চক্ষু সমস্যাসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে গিয়েছিলেন, সেখানে ১১৭ দিন থাকার পর ৬ মে দেশে ফেরেন।






