ডাটা গায়েব ও সার্ভার গরমিলের নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট; ‘মনিটরিং অসম্ভব’ বলে দায় এড়াচ্ছে সওজ কর্তারা
সওজের টোল প্লাজাগুলোতে ফিরেছে আওয়ামী লীগের আধিপত্য?
- আপডেট সময় : 08:00:53 pm, Monday, 1 June 2026 75 বার পড়া হয়েছে
সওজের টোল প্লাজায় ‘ডিজিটাল কারসাজি’: সিন্ডিকেটের কব্জায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব?
টোল খাতে অনিয়ম, ডিজিটাল কারসাজি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ে বিস্তর অভিযোগ
দেশের সড়ক ও মহাসড়কের টোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) পরিচালিত বিভিন্ন টোল প্লাজায় ডিজিটাল অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, তথ্য গোপন এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেমের (ইটিসি) মাধ্যমে আদায়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব ও সংরক্ষণ নিয়ে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে টোল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সওজের কিছু বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘মনিটরিং সম্ভব নয়’—সওজ কর্মকর্তাদের বক্তব্য
টোল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সওজের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি।
একজন কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্ট দাবি করেন, বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রতিদিন জমা হওয়ায় দীর্ঘ সময় ডাটা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে একজন প্রোগ্রামার বলেন, দেশের সব টোল প্লাজার কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচকদের প্রশ্ন—যদি পর্যবেক্ষণই নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষিত থাকবে কীভাবে?
Shamim Enterprise (Pvt.) Ltd.-কে ঘিরে বিতর্ক
অন্যদিকে অবকাঠামো ও টোল খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে Shamim Enterprise (Pvt.) Ltd.-এর নামও বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে।
সমালোচকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, টেন্ডার ও টোল ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এছাড়া কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা সরকারি তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদনের হাতে নেই।
রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডকে ঘিরে অভিযোগ
অনুসন্ধানে “রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টোল ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও সার্ভার পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কিছু সুযোগ ছিল, যার মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টোল তথ্য ও সার্ভার ডাটায় গরমিলের অভিযোগ
অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, কিছু টোল প্লাজার ভিডিও ফুটেজ এবং সার্ভার রিপোর্টের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা ও সার্ভারে প্রদর্শিত তথ্যের মধ্যে গরমিল থাকলে তা রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পূর্ণাঙ্গ আইটি অডিট ও ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
টোল খাতে প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের অভিযোগ
অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সূত্রের দাবি, টোল ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিগত সেবা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী স্বার্থগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
তবে “রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড” এবং “Shamim Enterprise (Pvt.) Ltd.”-এর মধ্যে সরাসরি কোনো অবৈধ সম্পর্ক বা যৌথ অনিয়মের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারি তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
আইটি অডিট ও ফরেনসিক তদন্তের দাবি
টোল খাতে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট মহল পূর্ণাঙ্গ আইটি অডিট, সার্ভার লগ বিশ্লেষণ, আর্থিক নিরীক্ষা এবং ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক টোল ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল ট্রেইল সংরক্ষিত থাকার কথা। সেই তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
জনমনে প্রশ্ন
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—টোলের নামে আদায়কৃত প্রতিটি টাকা কি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে? নাকি প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা কিংবা প্রভাবশালী চক্রের কারণে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ঝুঁকির মুখে পড়ছে?








