গ্রামের কিশোর থেকে আন্তর্জাতিক গ্যাং লিডার—জেলে বসেও নিয়ন্ত্রণ করেন অন্ধকার জগৎ
- আপডেট সময় : 09:28:53 am, Thursday, 9 October 2025 167 বার পড়া হয়েছে
ভারত–কানাডা টানাপোড়েনে বিষ্ণোই গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছে কানাডা
গত বছরের অক্টোবরে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পার্লামেন্টের এক কমিটিতে বলেন, ভারত সরকার নরেন্দ্র মোদির সমালোচক কানাডীয় নাগরিকদের টার্গেট করতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মতো অপরাধী সংগঠনকে ব্যবহার করছে।
তবে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ ভারত বারবার অস্বীকার করেছে। চলতি মাসে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ সিবিসি নিউজকে বলেন, ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তদন্তে সহযোগিতা করছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কানাডায় বিষ্ণোই গ্যাং এখন সন্ত্রাসী সংগঠন
কানাডা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারের অভিযোগ, এই গ্যাং প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করছে।
কানাডার জননিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, বিষ্ণোই গ্যাং খুন, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, ভয় দেখানো ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাদের টার্গেট সাধারণত স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
বিশ্ব শিখ সংস্থা অব কানাডা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বিষ্ণোই গ্যাং ভারতের হয়ে কানাডায় শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমননীতির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে, যার মধ্যে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত।
এ ঘোষণার ফলে কানাডা সরকার এখন গ্যাংটির সম্পদ ও তহবিল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা পেয়েছে।
কারাগারে থেকেও আত্মবিশ্বাসী লরেন্স বিষ্ণোই
বহু মামলা ও অভিযোগ সত্ত্বেও লরেন্স বিষ্ণোই এখনো আত্মবিশ্বাসী ও অচঞ্চল।
গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে গ্যাংস্টার বলা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। এটাই আমার পরিচয়, যা ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “নয় বছর জেলে কাটিয়ে আমি এখন আর ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখি না। আমি যেমন আছি, তাতেই স্বস্তিতে আছি।”















